দেশজুড়ে

সরকার গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে ভিন্ন পথে হাঁটছে

নির্বাচনের আগে ও পরে সরকার গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে ভিন্ন পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে খুলনার শিরোমণি খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় জামায়াতের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ করে ছয়টি সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন এবং সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ থেকে সরে এসে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।

নিজ নির্বাচনি এলাকার ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিরোধী দলের প্রার্থীদের হারানো হলেও দেশের স্বার্থে সহিংসতা এড়িয়ে ফলাফল মেনে নেওয়া হয়েছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সামান্য ভোটের ব্যবধানে আমি পিছিয়ে থাকলেও ৬ হাজার ৫০০ ব্যালট বাতিল করা হয়েছে, যার বড় অংশই ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে ছিল। অনেক ক্ষেত্রে ভাঁজ করার সময় কালি লেগে যাওয়া বা আঙুলের টিপের কালি ছড়িয়ে পড়াকে অজুহাত করে ভোট বাতিল করা হয়েছে।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, আমার জয়ের জন্য ১৪০০ ভোটই যথেষ্ট ছিল। বাতিল ব্যালটগুলো পুনরায় যাচাই করা হলে প্রকৃত ফল ভিন্ন হতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালে রিট দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগের রাতে তার কণ্ঠ নকল করে একটি ভুয়া অডিও প্রচার করা হয়, যাতে সংখ্যালঘু ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটের আগের রাতে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। আমরা মিথ্যার কাছে পরাজিত হইনি, বরং নৈতিকতার জায়গায় বিজয়ী হয়েছি। ফলাফল ঘোষণার সময় উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন। কালো টাকা ও ভয়ভীতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আপনারা পরাজিত হননি; প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে ফল ভিন্ন হয়েছে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংসদে আলোচনা করে জুলাই সনদের একমত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করুন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে চলুন। সহিংসতা বন্ধ ও বিরোধীদের প্রতি সহনশীল আচরণেরও আহ্বান জানান তিনি।

খানজান আলী থানা আমির সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও এ টি এম গাউসুল আযম হাদি, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলামসহ প্রমুখ।

আরিফুর রহমান/কেএইচকে/এমএস