আন্তর্জাতিক

যে কারণে ইরানের সামরিক কাঠামো অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী

মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরানের সামরিক কাঠামোকে বিশ্লেষকরা জটিল ও কিছুটা অস্পষ্ট বলে বর্ণনা করেন। দেশটি সমান্তরাল সেনাবাহিনী, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং বহুস্তরীয় কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব বাহিনীর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ থাকে দেশের সর্বোচ্চ নেতার হাতে।

ইরানের সামরিক শক্তির মূল ভিত্তি দুটি পৃথক বাহিনী—

আরতেশ: নিয়মিত সেনাবাহিনী

এটি ইরানের প্রচলিত সামরিক বাহিনী। সীমান্ত রক্ষা, আকাশসীমা সুরক্ষা এবং প্রচলিত যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব তাদের ওপর।

আইআরজিসি: (নিয়মিত সেনাবাহিনের উপরে আরেকটি সেনাবাহিনী)

পূর্ণ নাম ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পস। এই বাহিনীর দায়িত্ব শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক কাঠামো রক্ষা করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির বড় অংশও তাদের নিয়ন্ত্রণে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আইআরজিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কৌশলগত লক্ষ্য

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক কৌশল তার রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।মূল লক্ষ্যগুলো হলো—দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা, বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ ও শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমান্তরাল ও বহুস্তরীয় সামরিক কাঠামো গড়ে তোলার পেছনে একটি বড় কারণ হলো বাহ্যিক আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থান—উভয় ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা।

ইরানের সামরিক ব্যবস্থা কেবল প্রচলিত প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি সমন্বিত কাঠামো, যেখানে সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা একসঙ্গে পরিচালিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই দেশটির সামরিক কাঠামোকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জটিল ব্যবস্থাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম