অর্থনীতি

সিইটিপি পুরোপুরি চালু হলে চামড়া খাতের দ্বিগুণ রপ্তানি সম্ভব: ডিসিসিআই

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বিশ্ববাজারে অংশীদারত্ব এখনও খুবই কম বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, সাভারের সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) পুরোপুরি কার্যকর করা গেলে এ খাতের রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করা সম্ভব।

সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে অর্থনীতির বিদ্যমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়্যালি যুক্ত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এমপি।

তাসকীন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে চামড়া খাতে পরিবেশগত মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সাভারের সিইটিপির পরিশোধন ক্ষমতা বর্তমানে ১৪ হাজার কিউবিক মিটার থেকে বাড়িয়ে ৩৫ হাজার কিউবিক মিটারে উন্নীত করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সার্টিফিকেশন না থাকায় বাংলাদেশি চামড়া ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রবেশে নানা বাধার মুখে পড়ছে। ফলে অনেক উদ্যোক্তা বাধ্য হয়ে তুলনামূলক কম দামে চীনে কাঁচা চামড়া রপ্তানি করছেন।

কোরবানির সময় কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন ডিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতিবছর কোরবানির সময় ১০ থেকে ২০ শতাংশ কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে এতিমখানা, মাদরাসা ও মসজিদ কর্তৃপক্ষকে স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে লবণ ও বরফ সরবরাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে কোরবানির চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কার্যকর পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, চামড়া খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন অর্জন এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি। এতে করে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

ইএআর/এএমএ