সৌদি আরবে একটি আবাসিক ভবনে মিসাইল হামলায় নিহত হয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের প্রবাসী মোশারফ হোসেন (৩৮)। রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে দেশটির আল-খার্জ গভর্নরেটের একটি কম্পাউন্ডের আবাসিক ভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার তথ্য জানা গেছে।
নিহত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব যান মোশারফ হোসেন। সর্বশেষ দুই বছর আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। মৃত্যুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগেও বড় ছেলে মাহিমের (১৪) সঙ্গে তার ভিডিও কলে কথা হয়েছিল।
মাহিম বলেন, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়। তখন বাবা বলেন- ঈদের কাপড় কেনার জন্য যা লাগে তা কিনে নিও। ইফতারের পর টাকা পাঠাবে। কিন্তু ইফতারের সময়ই মিসাইল হামলায় বাবা মারা গেছেন।
মাহিম মোশারফের বড় ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে মিহান (৭) প্রথম শ্রেণীর মাদরাসার ছাত্র।
মোশারফের স্ত্রী কবরী আক্তার বলেন, রোববার রাত ৭টার দিকে তার সঙ্গে শেষ কথা হয় আমার। এখন দুই সন্তান নিয়ে আমি কীভাবে চলব? আমাদের এখন কে দেখবে?
সোমবার (৯ মার্চ) কীর্তনখোলা গ্রামে মোশারফের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। বাড়িতে তার মা, একমাত্র বোন মোর্শেদা এবং স্ত্রী কবরী আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মোশারফের বাবা সুজাত আলী বলেন, আমার ছেলেকে তো আর দেখতে পাবো না। এখন অন্তত তার মরদেহটা দেশে ফেরত চাই। যেন শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারি। মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী নিহত মোশারফের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
আব্দুল্লাহ আল নোমান/এনএইচআর/জেআইএম