মাহাফুজুল হক চৌধুরী, আবুধাবি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে ‘ইন্ডিয়া ডটকম’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আমিরাতে মাত্র ৮ দিনের খাদ্য মজুদ অবশিষ্ট আছে। এই খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসীদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
তবে সরেজমিনে বাজার বিশ্লেষণ এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমিরাতে খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই।
প্রবাসীরা বলছেন, সম্প্রতি ভারতের কিছু মূলধারার গণমাধ্যম মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উস্কানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও তাদের সংবাদিকতার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
আমিরাত প্রবাসী ব্যবসায়ীদের মতে, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো রাষ্ট্রে মাত্র কয়েক দিনের খাদ্য মজুদ থাকার খবরটি অবাস্তব। তারা মনে করছেন, এটি মূলত বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির একটি অপচেষ্টা।
আমিরাতে সবজির বড় একটি অংশ আসে প্রতিবেশী দেশ ওমান থেকে। চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যেও সড়কপথে ওমান থেকে প্রতিদিন অসংখ্য সবজিবাহী ট্রাক আমিরাতে প্রবেশ করছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাক-সবজিও বাজারের চাহিদা মেটাচ্ছে।
প্রবাসী ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন কার্গো বিমানে করে মাছ ও সবজি দুবাইতে পৌঁছাচ্ছে। এছাড়া পাকিস্তান থেকে নিয়মিত গরুর মাংস আমদানি অব্যাহত রয়েছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি এবং মাছ-মাংসের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল।
স্থানীয় বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যদিও খাদ্য ঘাটতি নেই, তবে আমদানি খরচ বৃদ্ধি এবং রমজান মাসের বাড়তি চাহিদার কারণে কিছু কাঁচামালের দাম কিছুটা বেড়েছে। আগে যে টমেটো ও পেঁয়াজ ২ দিরহামে পাওয়া যেত, বর্তমানে তা ৬ দিরহামে বিক্রি হচ্ছে। ৫ দিরহামের কাঁচামরিচ ২০ দিরহামে ঠেকলেও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন এটি সাময়িক। এছাড়া প্রতি বছর রমজানে ফলের দাম কিছুটা বাড়লেও ঈদ পরবর্তী সময়ে তা আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুপার মার্কেটগুলোতে বর্তমানে ক্রেতাদের অতিরিক্ত ভিড় নেই, যা প্রমাণ করে যে স্থানীয় জনগণের মধ্যে কোনো আতঙ্ক নেই। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলেও আমিরাতের উন্নত লজিস্টিক ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণের কারণে খাদ্য সংকটের কোনো সুযোগ নেই।
প্রবাসী ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরবরাহ কিছুটা ধীর হলেও আমিরাতে কোনো পণ্যেরই ঘাটতি হবে না।
এমআরএম/এএসএম