জাতীয়

ফুটপাত দখলে নিয়ে চলছে ‘নীরব চাঁদাবাজি’

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ফুটপাত দখল ও ‘নীরব’ চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কিছুদিন চাঁদা আদায় বন্ধ থাকলেও রমজান শুরুর পর আবারও নিয়মিত চাঁদা দিতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মিনহাজুল (ছদ্মনাম) ছয় মাস ধরে মিরপুর-১০ নম্বর ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন ফুটপাতে পারফিউম বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, টেবিলের ওপর পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করি। কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। তারপরও কিছুদিন পরপর ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। কোনো ছাড় নেই।

মিরপুর ১০, ১, ২, ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর সেকশন সংলগ্ন বিভিন্ন ফুটপাতে ব্যবসা করা একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চাঁদা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। কারও অভিযোগ সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে, কারও অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। তাদের ভাষ্য, আগে যারা চাঁদা তুলতেন তারা এখন নেই; নতুন কিছু মুখ চাঁদা নিয়ন্ত্রণ করছেন।

মিরপুর-১০ নম্বরের হোপ গলিসংলগ্ন এক ব্যবসায়ী জানান, চাঁদাবাজি কমবেশি সব সময়ই ছিল। কেউ বিদ্যুতের খরচের কথা বলে, কেউ সমিতির কথা বলে টাকা নেয়। ফুটপাতে ব্যবসার বৈধতা না থাকায় নিরুপায় হয়েই টাকা দিতে হয়।

ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও ফুটপাত দখল বন্ধে আমরা কাজ করছি। ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জোন পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, ফুটপাতে চাঁদাবাজির তথ্য তারা পাচ্ছেন। নির্বাচন-পরবর্তীসময়ে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পরে আবার চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। চিহ্নিত ব্যক্তিদের তালিকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।

অন্যদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ঢাকা-১৬ আসনে সংসদ সদস্য পদে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী, টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক তার নির্বাচনি এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, পল্লবী ও রূপনগরে কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসে জড়িত থাকলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মেট্রোর ফুটপাত হকারদের দখলে

পল্লবী, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনসংলগ্ন ফুটপাতে হকারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন এলাকায় সন্ধ্যার পর ফুটপাতজুড়ে বসছে অর্ধশতাধিক হকার। ফায়ার সার্ভিস থেকে মিরপুর-৬ নম্বর পর্যন্ত এবং বিপরীতে হাসপাতাল ও শপিং কমপ্লেক্স সংলগ্ন ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন পণ্যের দোকানে।

পল্লবী মেট্রো স্টেশন ও মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশন এলাকায়ও একই অবস্থা। স্টেশনের সিঁড়ির নিচে ফুল, পোশাক, সবজি ও খাবারের দোকান বসছে। কোথাও রিকশার জটলা, কোথাও মোটরসাইকেল পার্কিং—ফলে পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

দুয়ারীপাড়ার বাসিন্দা তানভীর হাসান বলেন, মেট্রোর নিচের ফুটপাত দিয়ে হাঁটার অবস্থা নেই। উপরে ফিটফাট, নিচে সদরঘাটের মতো। সিটি করপোরেশনের দেখা উচিত।

মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রী শফিক হোসেন বলেন, হকারদের জন্য নির্ধারিত জায়গা থাকলে এ অবস্থা হতো না।

হকারদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তারা এখানে বসছেন। মাঝে মধ্যে সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালালেও কিছুদিন পর আবার বসেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারা কাজ করছেন। রাস্তা সংস্কার, লেক সংরক্ষণ ও বাসযোগ্য নগর পরিবেশ গড়তে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। চাঁদাবাজি রোধে সারাদেশেই পুলিশ কাজ করছে।’

এসএম/এমএমএআর