জাতীয়

ধীরে ধীরে জঙ্গল সলিমপুরকে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে: র‍্যাব

চট্টগ্রামের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ধাপে ধাপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত এই পাহাড়ি এলাকাকে ধীরে ধীরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এবং সেখানে অপরাধীদের আর কোনো অবস্থান করতে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাফিজুর রহমান জানান, সম্প্রতি জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে সেখানে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ভেঙে দেওয়া এবং বর্তমানে এলাকাটিতে প্রশাসনের উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্থায়ী অবস্থান নিতে পারেনি। এবার যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ‘ফুটহোল্ড’ বা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অভিযানের প্রথম ধাপ সফলভাবে শেষ করে সেখানে দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তবে অভিযান শুরু হওয়ার আগেই প্রধান সন্ত্রাসীরা আগাম তথ্য পেয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, বহু বছর ধরে ওই এলাকায় বাহিনীর প্রবেশই ছিল কঠিন। এবার যৌথ বাহিনী প্রবেশ করে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে। অভিযানের প্রথম ধাপ বা ‘ফেজ ওয়ান’ সফলভাবে শেষ হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

র‍্যাবের দাবি, পালানোর সময় সন্ত্রাসীরা ভারী অস্ত্র আশপাশের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রেখে গেছে। তথ্য ফাঁসের বিষয়ে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি কোনো সাংবাদিক বা বাহিনীর সদস্য এই তথ্য সরবরাহ করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সন্ত্রাসীদের এলাকা ছেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও অভিযানকে সফল বলে দেখছেন তারা।

অভিযানস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার ক্যালিবারের গুলিও রয়েছে, যা সাধারণত সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যবহৃত হয়। কর্মকর্তারা স্মরণ করেন, সম্প্রতি নিহত এক র‍্যাব সদস্য অভিযানের পরিকল্পনার নেপথ্য কারিগর ছিলেন।

হাফিজুর রহমান বলেন, এখন অভিযানটির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে। এ পর্যায়ে এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করা হবে। পাশাপাশি এলাকার প্রায় এক লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রশাসন কাজ করছে।

এমআরএএইচ/একিউএফ