আন্তর্জাতিক

ইরানের আরও ২ নারী ফুটবলারকে আশ্রয় দিলো অস্ট্রেলিয়া

ইরানের নারী ফুটবল দলের আরও দুই সদস্যকে মানবিক ভিসা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে দলের পাঁচ খেলোয়াড়কে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক এক ম্যাচে জাতীয় সংগীত না গাওয়ার পর ইরানে ফিরে গেলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে- এই আশঙ্কা থেকে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বুধবার (১১ মার্চ) সাংবাদিকদের জানান, দলের একজন খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফের একজন সদস্য আশ্রয় চেয়ে অস্ট্রেলিয়াতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পাঁচজন সদস্যকে মানবিক ভিসা দেওয়ার পর ওই দুইজনও এখন তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

বার্ক জানান, দলটি মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গভীর রাতে অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে এই দুজন আশ্রয়ের আবেদন করেন। তিনি বলেন, সিডনি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা ও দোভাষীরা প্রত্যেক নারী সদস্যকে আলাদাভাবে ডেকে কথা বলেন ও সেখানে কোনো ইরানি তত্ত্বাবধায়ক উপস্থিত ছিলেন না। সেই সময়ই তাদের আশ্রয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বার্ক বলেন, তাদের সামনে একটি পছন্দের সুযোগ রাখা হয়েছিল। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়দের কিছু ছবিও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত করেছি যে সেখানে কোনো তাড়াহুড়া বা চাপ ছিল না।

বার্ক আরও জানান, দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে আশ্রয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তিনি জানান, প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য সিডনি থেকে ছাড়ার আগে বিমানে ওঠা বিলম্বিত করেছিলেন, কারণ তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছিলেন।

বার্ক বলেন, আমরা নিশ্চিত ছিলাম না তিনি কী সিদ্ধান্ত নেবেন। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যক্তি নিজেই তার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, আশ্রয়ের আবেদন করা সাত সদস্যকেই অস্থায়ী মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের পথ তৈরি করতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি) জানিয়েছে, এই ভিসাগুলোর মেয়াদ ১২ মাস এবং এগুলো ইউক্রেন, ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানের আবেদনকারীদের দেওয়া ভিসার মতোই।

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে থাকা হোটেল থেকে সিডনির অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় ও সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ওঠার আগে প্রতিবাদ দেখা যায়। ইরানি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয়রা ওই নারীদের দেশ ছাড়তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, কারণ তারা আশঙ্কা করছিলেন- ইরানে ফিরলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক এশিয়া কাপ ম্যাচে জাতীয় সংগীত না গাওয়ার কারণে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দলটিকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেওয়ার পর থেকেই খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। যদিও পরে অন্য ম্যাচগুলোতে দলটি জাতীয় সংগীত গেয়েছিল।

এদিকে, ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জানায়, দলের বাকি সদস্যদের ‘শান্তি ও আস্থার সঙ্গে’ দেশে ফেরার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়, এই প্রিয়জনদের শান্তি ও আস্থার সঙ্গে মাতৃভূমিতে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে এবং একই সঙ্গে তাদের পরিবারের উদ্বেগের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও খেলোয়াড়দের দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের নারী ফুটবল দলের উদ্দেশে বলছি- চিন্তা করবেন না, ইরান আপনাদের জন্য উন্মুক্ত বাহু নিয়ে অপেক্ষা করছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএএইচ