‘রঙ কইরা কী করবি, আগে ইঞ্জিনের কাজটা কর। না হইলে পথেই হুইয়া ঈদ করবি।’ একজন পরিবহন শ্রমিককে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ইঞ্জিনমিস্ত্রি মিজানুর রহমান। এই কথার অর্থ খুঁজতেই যাওয়া হয় তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মনোয়ারা অটোমোবাইলসে। সেখানে কথা হয় তার সঙ্গে।
ইঞ্জিনমিস্ত্রি মিজানুর রহমান বলেন, সাভারে যে কয়টা বাস মেরামতের ওয়ার্কশপ আছে তারা এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছে। পুরাতন গাড়িগুলোর বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়াতেই তাদের ব্যস্ততা। তবে গাড়ির ভেতরে ফাঁকা। জোড়াতালি দিয়ে চলছে ইঞ্জিন। অরজিনাল মালের দাম বেশি হওয়ায় অধিকাংশ বাস মালিক লেদ থেকে কম দামে মাল তৈরি করে ইঞ্জিনে লাগায়। যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
৯০’র দশকের পুরোনো বাসের চালক মুসলেম উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হয় ইঞ্জিনমিস্ত্রির কথাগুলো কতটুকু সত্য। তিনি বলেন, অধিকাংশ সত্য, তবে ঝুঁকি নেই। কারণ বাস কখনো বুড়া হয় না। একটু ঠিক করলেই চালানো যায়।
এই বাসের অরজিনাল যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,‘সব পাওয়া যায় না। যেগুলো পাওয়া যায় তারও দাম মেলা। তাই লেদ থেকে বিকল্প তৈরি করে ব্যবহার করি।’
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ঈদযাত্রায় যুক্ত করতে সাভারে চলছে লক্কড় ঝক্কড় বাস মেরামত। বাসের ফিটনেস না থাকলেও ঈদে ঘরমুখো মানুষকে আকৃষ্ট করতে বডি মেরামত করে তাতে দেওয়া হচ্ছে রং। সাভারের আমিন বাজার, বলিয়াপুর ও রাজফুলবাড়িয়ার গ্যারেজগুলোতেই চলছে জোড়া তালি দিয়ে ফিটনেসবিহীন ভাঙাচোরা গাড়ি মেরামতের কাজ। যেসব যানবাহনগুলো মূলত স্বল্প দূরত্বে চলাচল করে, সেগুলো ঈদযাত্রায় যাবে উত্তর আর দক্ষিণবঙ্গে। ২৭ রমজান থেকে এসব যানবাহন থাকবে সড়কে।
প্রতিবছরই এ ধরনের বাসগুলোর কারণে যাত্রাপথে নানা বিপত্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। গন্তব্যের মাঝ পথে বিকল হয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পথে তৈরি করে দীর্ঘ যানজট। কোথাও বড় হতাহতের কারণও হয়ে দাঁড়ায়।
এসব ঝুঁকিপূর্ণ আনফিট যানবাহনের সঠিক সংখ্যার তথ্য সাভার বিআরটিএ, উপজেলা অফিসসহ কোনো সরকারি দপ্তরে না থাকলেও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের দাবি এসব যানবাহনকে প্রতিরোধ করার।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, এদের থামানো না গেলে কখনোই সড়ক নিরাপদ হবে না। এসব যানবাহনের কারণে সড়কে ঝরে তাজা প্রাণ, বাড়ে মৃত্যুর মিছিল।
তবে এবার এসব যানবাহনের ওপর কড়া নজরদারির কথা জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। সাভার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শাহজাহান বলেন, ঈদযাত্রায় যেন কোনো আনফিট যানবাহন যুক্ত না হয়, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। আইন অমান্য করলে সরকারি আইন মোতাবেক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এফএ/এএসএম