বিনোদন

‘একটা মশাও মারতে পারি না’, স্বামী প্রাণ রায়ই কাকলীর বেঁচে থাকার ভরসা

স্ট্রোক করে হাসপাতালের বিছানায় দিন কাটছে এককালের ব্যস্ত নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলীর। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নারী নির্মাতা গত বছরের অক্টোবরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি স্ট্রোক করেছেন। তখন থেকেই হাসপাতালে ভর্তি করে চলছে তার চিকিৎসা।

কাকলীর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজের শখের গাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছেন স্বামী অভিনেতা প্রাণ রায়। প্রিয় এই নির্মাতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

তবে প্রেমিক থেকে স্বামী হওয়া প্রাণ রায়ের ভালোবাসা ও যত্নে আপ্লুত শাহনেওয়াজ কাকলী। প্রাণকে নিজের জীবনসঙ্গীর চেয়েও বেশি কিছু বলে দাবি করেন তিনি। 

সম্প্রতি নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে কাকলী বলেন, ‘বেটার হাফ বললে ভুল হবে, এখন সে আমার শরীরেরই একটা অংশ হয়ে গেছে। ওকে ধরেই দাঁড়াই, ওকে ধরে বসি। খাবারটাও ওই তৈরি করে দেয়। অসুস্থ না হলে বোঝা যায় না- মানুষ কত ছোট ছোট জিনিসের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা মশা কামড় দিলেও নিজে মারার ক্ষমতা নেই। তখন ওকে ডাকতে হয়। কখনো পিঠ চুলকাচ্ছে- সেটাও ওকে বলতে হয়। শরীরের প্রতিটি স্নায়ু তো নিজেরই হওয়ার কথা, কিন্তু এখন সবকিছুই আমাকে ভাগ করে নিতে হচ্ছে।’

এই সময় সবচেয়ে বেশি কী মিস করেন এমন প্রশ্নের জবাবে কাকলী বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি মিস করি হাঁটা। মনে হয়, জীবনে আরও বেশি হাঁটা উচিত ছিল। যদি হাঁটাগুলো জমা করে রাখা যেত, তাহলে হয়তো এখন সেগুলো নিয়ে হাঁটতে পারতাম। চোখ বন্ধ করলেই মনে হয় আমি ক্যাম্পাসে হাঁটছি। চারুকলার চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছি, হল পর্যন্ত হেঁটে যাচ্ছি। সেই জীবনটাই খুব মিস করি।’

চারুকলার স্মৃতি নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘চারুকলাকে তো মিস করবই। মরে গেলেও মিস করব। সেখান থেকেই আমার বেড়ে ওঠা। জন্ম হয়তো মায়ের পেটে, কিন্তু আমার মানসিক বিকাশ, আমার ভাবনা, সিনেমা বানানোর বোধ- সবকিছুই তৈরি হয়েছে সেই প্রাঙ্গণ থেকেই।’ নিজের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন শাহনেওয়াজ কাকলী।

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে সংবেদনশীল ও মেধাবী নির্মাতা হিসেবে পরিচিত শাহনেওয়াজ কাকলী। ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার প্রথম চলচ্চিত্র উত্তরের সুর দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। ছবিটি ভারতের গোয়া, কলকাতা ও থার্ড আই মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসবসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়। একইসঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা ছবি, পার্শ্ব-অভিনেত্রী ও শিশুশিল্পী বিভাগে পুরস্কার অর্জন করে।

পরে ২০১৫ সালে তার নির্মিত চলচ্চিত্র ‘নদীজন’ও প্রশংসিত হয় এবং বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত টেলিভিশন নাটক নির্মাণ, চিত্রনাট্য লেখা এবং শিল্প নির্দেশনার কাজও করে আসছিলেন।

 

এমআই/এলআইএ