জাতীয়

স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ পড়িয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ বাক্য পাঠ পড়ান রাষ্ট্রপতি।

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক বীর বিক্রম লাভ করেন। তরুণ বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন এবং ১৯৬৪ সাল থেকে পরপর তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব হিসেবে পরিচিতি পান।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন/ছবি সংগৃহীত

রাজনৈতিক জীবনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে ভোলা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে বিজয়ী হন। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুনজাতীয় সংসদের স্পিকার হলেন মেজর হাফিজডেপুটি স্পিকার হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, পাটমন্ত্রী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।

৮১ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এবং এবার সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি ১৯৭২ সালের ৩১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার চত্রাংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর এবং মা বেগম যোবায়দা কামাল। পারিবারিকভাবেই জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি ধারার মধ্যেই তার বেড়ে ওঠা।

কায়সার কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে ব্যারিস্টার অ্যাট ল ডিগ্রি লাভ করেন। আইন পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এমওএস/বিএ