লাইফস্টাইল

শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় মানুষের ঢল

রোজার প্রায় শেষ। চলছে ঈদের প্রস্তুতি। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন শপিং জোনগুলোতে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে নিউমার্কেট ও গাউসিয়া মার্কেট এলাকায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় যেন উৎসবের আগমনী বার্তা দিচ্ছে আনন্দের সঙ্গে বাড়াচ্ছে ভোগান্তিও।

ঈদের নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী কিংবা গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী সবকিছুই এক ছাদের নিচে পাওয়া যায় বলে নিউমার্কেট-গাউসিয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ। তাই ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই এখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থেমে থাকে না মানুষের পদচারণা।

দোকানিরা বলছেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই সময়টায় বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ক্রেতারাও সময়ের অভাব কিংবা ব্যস্ততার কারণে শেষ মুহূর্তেই কেনাকাটায় নামেন বেশি।

তবে এই ভিড় শুধু বাজারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, প্রভাব পড়ছে আশপাশের সড়কেও। নিউমার্কেট সংলগ্ন সড়কগুলোতে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশার চাপ মিলিয়ে পুরো এলাকা হয়ে উঠছে প্রায় অচল। এতে অফিসফেরত মানুষ থেকে শুরু করে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া পথচারীরাও পড়ছেন দুর্ভোগে।

নিউমার্কেট এলাকায় নতুন করে নির্মিত ওভারব্রিজ থাকলেও অনেক পথচারীকে দেখা যাচ্ছে রাস্তার ডিভাইডারের ফাঁক দিয়ে পারাপার হতে। এতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি যান চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে বিঘ্ন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব ও দ্রুত পারাপারের প্রবণতা এই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের অন্যতম কারণ।

ঈদ মানেই আনন্দ, কেনাকাটা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। কিন্তু এই আনন্দ যেন কারও জন্য দুর্ঘটনা বা দুর্ভোগের কারণ না হয়, সেই দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।

নিউমার্কেট-গাউসিয়া এলাকার এই চিত্র একদিকে যেমন উৎসবমুখর নগরজীবনের প্রতিচ্ছবি, অন্যদিকে তা আমাদের অবকাঠামো ও সচেতনতার সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরে।

ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে হলে প্রয়োজন সুশৃঙ্খল চলাচল, নিরাপদ পারাপার এবং পারস্পরিক সহনশীলতা।

জেএস/