জাতীয়

সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে তদারকি: সড়কমন্ত্রী

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মানুষের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো আগেই চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মন্ত্রী আজ ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাস কাউন্টার, গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ড ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং যাত্রাপথে তাদের কোনো ধরনের সমস্যা বা হয়রানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে কি না সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

রবিউল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। মানুষ যেন স্বস্তির সঙ্গে বাড়ি ফিরতে এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদ্‌যাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি।’

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস চলাচল করছে এবং নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ যাত্রীদের ওপর না পড়ে। সড়ক ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে, যাতে যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানান রবিউল আলম। তিনি বলেন, যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন টোল প্লাজায় রোজাদার যাত্রীদের জন্য সীমিত পরিসরে ইফতারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাত্রাপথে কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য কাছের হাসপাতালগুলোকে আগাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এছাড়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো আগেই চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

‘যেসব স্থানে সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে, সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নির্দিষ্টসংখ্যক লেন চালু রাখা হয়েছে। আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করে চেষ্টা করছি এবারের ঈদযাত্রাকে সুন্দর, স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে। আশা করছি এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না এবং মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে,’ যোগ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতা এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টিটি/একিউএফ