লাইফস্টাইল

টিনএজার সন্তান কথা শুনতে চান না কেন

টিনএজার সন্তানকে নিয়ে অনেক মা-বাবারই একটি পরিচিত অভিযোগ - ছোটবেলায় সব কথা শুনত, এখন যেন আমার কথা কানেই যায় না। কিশোর বয়সে সন্তানের এই পরিবর্তন অনেক সময় অভিভাবকদের হতাশ বা চিন্তিত করে তোলে।

কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি সবসময় অবাধ্যতা নয়। বরং কৈশোরে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন ঘটে।

কেন টিনএজাররা বাবা-মায়ের কথা কম শোনে?

গবেষণায় দেখা গেছে, ছোটবেলায় শিশুদের মস্তিষ্কে বাবা-মায়ের কণ্ঠ বিশেষভাবে সক্রিয় প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এই কণ্ঠ তাদের কাছে নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতি দেয়।

কিন্তু কৈশোরে পৌঁছালে মস্তিষ্কে একটি পরিবর্তন শুরু হয়। তখন তারা নতুন মানুষের কণ্ঠ, নতুন ধারণা ও সামাজিক সম্পর্কের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১৩ বছর বয়সের পর কিশোরদের মস্তিষ্ক অপরিচিত কণ্ঠের প্রতিও আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং নতুন সামাজিক অভিজ্ঞতার প্রতি বেশি সাড়া দেয়।

এটি অবাধ্যতা নয়, বিকাশের অংশ

এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো - টিনএজারদের পরিবার ছাড়িয়ে বৃহত্তর সামাজিক জগতে যুক্ত হতে সাহায্য করা।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ জানায়, কৈশোরে মস্তিষ্কের পুরস্কার ও সামাজিক সংযোগ সম্পর্কিত অংশগুলো দ্রুত বিকাশ লাভ করে। ফলে নতুন অভিজ্ঞতা ও নতুন মানুষের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।

তাহলে কি অভিভাবকের ভূমিকা কমে যায়?

একদমই না। বরং এই সময় অভিভাবকের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পার্থক্য হলো - যোগাযোগের ধরন বদলাতে হয়।

টিনএজাররা সাধারণত আদেশ বা নির্দেশের চেয়ে আলোচনা ও মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই তাদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে নতুন কৌশল প্রয়োজন।

কীভাবে সম্পর্কটি শক্ত রাখা যায়?

>> খোলা প্রশ্ন করুন

‘হোমওয়ার্ক করেছ?’ না বলে জিজ্ঞেস করতে পারেন, ‘আজ স্কুল কেমন কাটলো? কালকের প্রস্তুতিরে কী প্ল্যান?’

>> মন দিয়ে শুনুন

মাঝে মাঝে তারা শুধু কথা বলতে চায়, সমাধান নয়। তাই শুনে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

>> তাদের জগৎ জানতে আগ্রহী হোন

বন্ধু, আগ্রহ, অনলাইন দুনিয়া - এসব নিয়ে কথা বললে দূরত্ব কমে।

>> সমালোচনার বদলে সহায়তা দিন

টিনএজাররা ভুল করবেই। কিন্তু সেই ভুলের সময় পাশে থাকা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

কৈশোর এমন একটি সময় যখন সন্তান ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় তৈরি করতে শুরু করে। এই পথে বাবা-মায়ের ভূমিকা অদৃশ্য হয় না, বরং নতুন রূপ নেয়।

আপনার কণ্ঠ হয়তো আগের মতো একমাত্র কেন্দ্র নয়, কিন্তু তা এখনও পরামর্শ, সমর্থন ও নিরাপত্তার উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি নিউরোসায়েন্স গবেষণা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ইউনিসেফ

এএমপি/এমএস