দেশজুড়ে

যে কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিবছর যানজট

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের আগের দুদিন যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে যানজট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যানজট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অব্যবস্থাপনা, মহাসড়কের পাশে বাজার ও যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও গাড়ি পার্কিং, গোমতী সেতুর টোলপ্লাজায় যানবাহনের ধীরগতি এবং ঈদ মৌসুমেও মহাসড়কে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় এবারও ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে। যানজটের কারণে প্রতিবছরই এ মহাসড়কে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে সীমাহীন।

এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির বলদাখাল থেকে চট্টগ্রামের বারবকুণ্ড বাজার পর্যন্ত ২৭টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত এসব এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের বিশেষ নজর থাকবে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা, গৌরীপুর বাজার, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড, বুড়িচংয়ের নিমসার বাজার, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, আলেখাচর বিশ্বরোড, পদুয়ার বাজার ইউটার্ন, সুয়াগাজী বাজার, মিয়া বাজার এবং চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় যানজট প্রায় লেগেই থাকে। এছাড়া এ সড়কে দুর্ঘটনার শিকার গাড়ি সরাতে দেরি হলে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে যানজট। এতে বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রী ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে পড়তে হয় বিপাকে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, এবার ঈদে যাত্রীদের বিড়ম্বনা ও ডাকাতের উৎপাত কমাতে মহাসড়কের কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত কম এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২৭টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বলদাখাল বাসস্ট্যান্ড, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড, আমিরাবাদ, চান্দিনা বাজার, মাধাইয়া বাজার, কুটুম্বপুর বাজার, ইলিয়টগঞ্জ বাজার, বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, কুমিল্লা সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা, চৌদ্দগ্রামের মিয়া বাজার উভয় লেন, চৌদ্দগ্রাম বাজার ঢাকামুখী লেন, ফেনীর বিসিক মোড়, লালপোল এলাকা, রামপুর ব্রিজ এলাকা, কসকা বাজার, ছাগলনাইয়ার সমিতি বাজার, জোরারগঞ্জের বারইয়ার হাট, মীরসরাই, সীতাকুণ্ড উপজেলার সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ড, বড় দারোগার হাট ওজন স্কেল, পোর্টলিং, ছোট কুমিরা, কেডিএস মোড়, ভাটিয়ারি পয়েন্ট ও বারবকুন্ড বাজার।

আরও পড়ুন: সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে তদারকি: সড়কমন্ত্রীএবারও বাড়েনি ‘বিশেষ ট্রেন’, ভোগান্তির আশঙ্কা

কুমিল্লার বুড়িচংয়ের নিমসার এলাকার বাসিন্দা স্বপন মিয়া। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘ঈদের সময় মহাসড়কের আর কোথাও যানজট থাকুক আর না থাকুক, নিমসার বাজার এলাকায় দীর্ঘ যানজট থাকে। এর একমাত্র কারণ সড়কের ওপর কাঁচামালের গাড়ি দাঁড় করিয়ে বেচাকেনা করেন ব্যবসায়ীরা। অন্তত ঈদ উপলক্ষে এদের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।’

হানিফ পরিবহনের চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঈদ মৌসুমে মহাসড়কে যানবাহনের তীব্র চাপ থাকা সত্ত্বেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার আমতলীতে সংস্কার কাজ অব্যাহত রেখেছে। যে কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে গাড়ির গতি ৮০ থেকে ১০০ বেগে থাকলেও এই স্থানে এলে সেই গতি হয়ে যায় ৫-১০ কিলোমিটার। এতে এখনই এই এলাকায় যানজট, ঈদে কী অবস্থা হবে আল্লাহই ভালো জানেন!’

এ বিষয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহীনুর আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘মহাসড়কের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের বিড়ম্বনা কমাতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক মিটিং করা হয়েছে। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও রোভার স্কাউটের সদস্য মহাসড়কের দায়িত্ব পালন করবেন। যানজটপ্রবণ চিহ্নিত ২৭টি স্থানে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। পাশাপাশি মহাসড়কের যেসব এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংস্কার কাজ চলছে, সেগুলো দু-একদিনের মধ্যে চলাচলের উপযোগী করা হবে। আশা করছি আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি থাকবে না।’

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, যানজটমুক্ত রাখতে হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক মিটিং করেছি। যেসব এলাকায় আমাদের কাজ চলছে, সেগুলো ঈদের আগেই কাজ শেষ করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারদের বলে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি জাতীয় এই সড়কে ঈদে মানুষের ভোগান্তি কমবে।

এসআর/এমএস