সিরিজে তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত ব্যাটিং ও নাহিদ রানার গতির ঝড়েই পাকিস্তানকে বধ করলো বাংলাদেশ। বলা যায় ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেই পাকিস্তানকে সিরিজ হারালো টাইগাররা। সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সমর্থকরা খুশিই বলা চলে।
তবে টাইগারদের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল মনে করেন, ব্যাটিং মোটামুটি ভালোই হয়েছে। তানজিদ তামিমের মতো অতটা ভালো খেলতে না পারলেও অন্য ব্যাটাররা খুব খারাপ খেলেননি। আশরাফুল মনে করেন, পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে ব্যাটারদের পারফরম্যান্স মন্দ হয়নি। সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস এবং তাওহিদ হৃদয় মোটামুটি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
আসুন আগে দেখে নেওয়া যাক পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে টাইগারদের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স।
সবার আগে তানজিদ তামিমের পরিসংখ্যান। টাইগারদের এই ওপেনার তিন ম্যাচে একটিতে মাত্র ১ রানে আউট হলেও বাকি দুই ম্যাচে একটি ফিফটি (৪২ বলে ৬৭) এবং একটি সেঞ্চুরি (১০৭ বলে ১০৭) করে সর্বোচ্চ ১৭৫ রান করেছেন।
তবে তার সতীর্থদের কেউ আর একটি হাফ সেঞ্চুরিও করতে পারেননি। অপর ওপেনার সাইফ হাসান তিন ম্যাচে করেছেন ৪, ১২ ও ৩৬—মোট ৫২ রান। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তর সংগ্রহ ২৭, ০ ও ২৭—মোট ৫৪ রান।
লিটন দাস প্রথম ম্যাচে সেভাবে সুযোগ পাননি। তবে পরের দুই ম্যাচে চল্লিশের ঘরে গিয়ে সেট হয়ে আউট হয়েছেন (৩*, ৪১, ৪১)। তাওহিদ হৃদয় প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং পাননি। পরের দুই ম্যাচে (২৮ ও ৪৮*) খুব বেশি হাত খুলে খেলতে না পারলেও স্বচ্ছন্দে ব্যাট করেছেন এবং রানও পেয়েছেন।
১৫ মাস পর দলে ফেরা আফিফ হোসেন ধ্রুব নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং না পেলেও পরের দুই ম্যাচে (১৪ ও ৫*) তেমন কিছু করতে পারেননি।
অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা করা কঠিন। কারণ তিন ম্যাচে দুবার তিনি ব্যাটিংই পাননি। একবার ব্যাট করে মাত্র ১ রানে আউট হয়েছেন এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডার। তবে বল হাতে বেশ ভালো করেছেন। শেষ ম্যাচে উইকেট না পেলেও বাকি দুই ম্যাচে যথাক্রমে ২/৩৪ ও ৩/২৯ নিয়ে মোট ৫ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
তানজিদ তামিম ছাড়া আর কারও ব্যাট থেকে শতরান তো দূরের কথা, একটি পঞ্চাশও আসেনি। যা ভক্তদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তবে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল তা মানতে রাজি নন। তার ব্যাখ্যা, ব্যাটিং খারাপ হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচটি বাদ দিলে আমাদের ব্যাটাররা বেশ ভালোই খেলেছে। সেটা কীভাবে?
আশরাফুলের ব্যাখ্যা, ‘দেখেন, আমরা প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করে খুব দ্রুত লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেছি। ২০৯ বল হাতে রেখেই জয় পেয়েছি। সাধারণত লক্ষ্য ছোট হলেও আমরা ধীরে খেলি বা শুরুতে কিছুটা সংগ্রাম করি। কিন্তু সেই ম্যাচে তানজিদ তামিম বড় দলের ব্যাটারের মতো একদিকে হাত খুলে খেলেছে এবং পাকিস্তানি বোলারদের বোলিংকে কার্যত ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে আমাদের ব্যাটিংটা ভালো হয়নি। বৃষ্টির পর সংশোধিত লক্ষ্য পরিকল্পনাকে এলোমেলো করে দেয়। তারপরও লিটন দাস যেভাবে খেলছিল, তার ইনিংসটা বড় হলে হয়তো আমরা এতটা খারাপভাবে হারতাম না। আর শেষ ম্যাচে দেখেন, তানজিদ তামিম একদিকে দারুণ ব্যাট করে রানের চাকা সচল রেখেছে। সাইফ প্রথম উইকেটে তাকে ভালো সাপোর্ট দিয়েছে। এরপর শান্ত, লিটন ও তাওহিদ হৃদয় তিনজনই রান করেছে। কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও সবাই সাবলীল ছিল এবং নিজ নিজ দায়িত্ব যথাসাধ্য পালন করেছে।’
সাইফ হাসান সম্পর্কে আশরাফুল বলেন, ‘সাইফকে আমরা সাধারণত ফ্রি স্ট্রোকমেকার হিসেবেই চিনি। কিন্তু শেষ ম্যাচে ওপেনিং জুটি লম্বা করতে সে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক খেলা কমিয়ে ব্যাকরণ মেনে খেলেছে। অনেক বল ভালোভাবে ডিফেন্স করেছে, আবার কভার, মিড-অফ ও মিড-অন দিয়ে মাটির ওপর দিয়ে সুন্দর ড্রাইভ খেলেছে। এটা আমার খুব ভালো লেগেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লিটন দাস দুই ম্যাচেই স্বচ্ছন্দে খেলেছে এবং চল্লিশের ঘরে পৌঁছেছে। শান্ত বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও দুই ম্যাচেই ত্রিশের কাছাকাছি গেছে এবং জুটি গড়তে সহায়তা করেছে। তৌহিদ হৃদয়ও দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে।’
দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে হতাশ করেছেন আফিফ। তার প্রসঙ্গে আশরাফুল বলেন, ‘অনেকদিন পর দলে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে ফ্রি হয়ে খেলা কঠিন। আর আফিফ যখন উইকেটে গেছে, তখনই দ্রুত রান তোলার চাপ ছিল। তবে তার অ্যাপ্রোচ ইতিবাচক ছিল এবং ফিল্ডিংয়েও ভালো ব্যাকআপ দিয়েছে।’
সব মিলিয়ে আশরাফুলের মূল্যায়ন, ‘শেষ ম্যাচে যদি আমরা আরও ৩০ রান করতে পারতাম, তাহলে আমি আরও খুশি হতাম। তবে সেটাও সহজ ছিল না। শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফ যেভাবে রিভার্স সুইং করিয়েছে, তাতে হাত খুলে খেলা কঠিন ছিল। খালি চোখে মনে হতে পারে শেষ দিকে রান কম এসেছে, কিন্তু ওই পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যাটাররা যেভাবে খেলেছে, তাতেও আমি সন্তুষ্ট। আমার কোনো অভিযোগ নেই।’
এআরবি/আইএন