জাতীয়

সদরঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়ছে, ফ্রি কুলি ও ট্রলি সুবিধায় স্বস্তি

ঈদযাত্রা শুরু হওয়ায় রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই যাত্রীরা আগেভাগে এসে টিকিট সংগ্রহ ও মালামাল গুছিয়ে রাখছেন। দূরপাল্লার যাত্রীরা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। আর স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা নির্ধারিত লঞ্চ ধরে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, সকাল থেকে ধীরে ধীরে যাত্রী উপস্থিতি বেড়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ আরও বেড়েছে। সদরঘাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে।

সরেজমিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় দেখা গেছে, রাজধানীর যানজট এড়াতে অনেক দূরপাল্লার যাত্রী আগেভাগেই ঘাটে পৌঁছেছেন। কেউ পরিবারসহ অপেক্ষা করছেন। কেউ লঞ্চের নির্ধারিত সময়ের আগে টিকিট সংগ্রহ করে মালামাল গুছিয়ে রাখছেন।

বিশেষ করে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা আগেভাগেই আসন নিশ্চিত করছেন। মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুরসহ স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরাও নির্দিষ্ট লঞ্চ ধরে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।

ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। যাত্রী ওঠানামা, টিকিট সংগ্রহ ও মালামাল বহনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয় তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি চলছে।

কিছু যাত্রী লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে লঞ্চ মালিকপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

ঢাকা মহানগর পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অতিরিক্ত সিভিল টিম নজরদারি করছে। টহল ও চেকপোস্টের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তির তল্লাশি, অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঈদ এবং পরবর্তী দিনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। আমরা নিশ্চিত করছি, জনগণ নিরাপদে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারবে।’

কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা নদীপথে টহল দিচ্ছেন। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা মালামাল লক্ষ্য করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীদের স্বস্তি: ফ্রি কুলি ও ট্রলি সুবিধা

বরিশালগামী যাত্রী রাইফা ইসলাম জানালেন, প্রতি বছর সদরঘাটে কুলিদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে ঝামেলা হতো। এবার একজন কুলি বললেন, ঈদ উপলক্ষে এই সেবা ফ্রি। সত্যিই অনেক স্বস্তি হলো।

পটুয়াখালী যাবেন শাহানারা বেগম। বললেন, ‘বয়স্ক হওয়ায় লঞ্চে মালামাল বহন খুব কষ্টকর হতো। এবার হুইলচেয়ার ও ট্রলির ব্যবস্থা থাকায় অনেক সহজ হয়েছে।’

যাত্রী ফারহানা আক্তার বলেন, ফ্রি কুলি, ট্রলি ও হুইলচেয়ারসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ঈদযাত্রাকে অনেক সুবিধাজনক করেছে।

ভোলাগামী যাত্রী সাইফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, সদরঘাটের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। ফ্রি কুলি সুবিধা অনেক সহায়ক হয়েছে।

হুইলচেয়ার ও অতিরিক্ত উদ্যোগ

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানিয়েছেন, ঈদের আগে পাঁচ দিন এবং পরে পাঁচ দিনসহ মোট ১০ দিনের জন্য ফ্রি কুলি (পোর্টার) সেবা দেওয়া হবে। কুলিদের বেতন কর্তৃপক্ষ নিজস্বভাবে দিচ্ছে।

১০০টি ট্রলি বিমানবন্দর থেকে আনা হয়েছে। অসুস্থ, অক্ষম বা বয়স্কদের জন্য ২০টি গেট এলাকায় মোট ৪০টি হুইলচেয়ার স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবহারে সহায়তা করবেন ক্যাডেট সদস্যরা।

লঞ্চ মালিকদের উদ্যোগ

ঈদ উপলক্ষে লঞ্চ মালিকরা ভাড়া ১০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। এতে যাত্রীদের আরও স্বস্তি নিশ্চিত হয়েছে।

বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘নতুন সরকারের সময়ে নদীপথের যাত্রীদের কল্যাণে আরও উন্নত ও স্বস্তিদায়ক সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সদরঘাটের পরিবেশ এখন সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন। সারাবছরই এই সেবার মান বজায় রাখতে আমরা আরও উদ্যোগ গ্রহণ করবো।’

নতুন লঞ্চ ও যাত্রীসেবা

সকাল ১১টায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট পরিদর্শন করে শিমুলিয়া থেকে চাঁদপুর ও বরিশালগামী তিনটি নতুন যাত্রীবাহী লঞ্চ উদ্বোধন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এমডিএএ/এমএমএআর