‘বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বিচার সংস্কার সুসংহতকরণ ২০২৬’ শীর্ষক উদ্যোগে সহায়তার জন্য চুক্তি সই করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও নরওয়ে সরকার।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নরওয়ে দূতাবাসে এ চুক্তি সই সম্পন্ন হয়। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো-বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শক্তিশালী করা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের পরিচালনাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং জনগণের আস্থা ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা উন্নত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিচার সংস্কার কার্যকর করা।
চুক্তি সই করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন। এই অংশীদারত্বের অধীনে ইউএনডিপি ও নরওয়ে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম সমর্থনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরঞ্জাম সরবরাহ করবে।
উদ্যোগটি সচিবালয়ের নবনিযুক্ত কর্মীদের কার্যকর বিচারিক স্ব-প্রশাসন নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবে। পাশাপাশি, বিচারিক স্বাধীনতা বিষয়ে গভীরতর বোঝাপড়া ও সমর্থন গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি বিচার বিভাগ, সরকার, আইন পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সংলাপের আয়োজন করবে।
চুক্তি স্বাক্ষরকালে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে মেধাভিত্তিক বিচারক নিয়োগ এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক সেবা সম্প্রসারণ পর্যন্ত বিচার খাতকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। নরওয়ের সঙ্গে এ নতুন অংশীদারত্ব এ সংস্কারগুলোকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক অনুশীলনে রূপান্তর করতে সাহায্য করবে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনআস্থা নিশ্চিত করতে বিচারিক স্বাধীনতা অপরিহার্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলমান গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোকে সুসংহত করতে বাংলাদেশকে সমর্থন দিতে পেরে নরওয়ে আনন্দিত। এই সংস্কারগুলো আদালত প্রশাসনকে আধুনিকীকরণ, জবাবদিহি জোরদার এবং নাগরিক ও ব্যবসার মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি উন্নত করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের আস্থাভাজন একটি বিচার ব্যবস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
চুক্তির মাধ্যমে ইউএনডিপি ও নরওয়ে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তারা বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক শাসনের ভিত্তি হিসেবে বিচার খাতের সংস্কার এগিয়ে নিতে এবং আইনের শাসন শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জেপিআই/এমএএইচ/