আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের মধ্যে রুশ তেল কিনতে এশিয়ায় কাড়াকাড়ি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ভয়াবহ সংকটে পড়েছে বিশ্ব। বিশেষ করে, এশীয় দেশগুলোর মধ্যে তেলের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় রাশিয়ার তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সুযোগ নিয়ে ভারত-চীনের মতো দেশগুলো রীতিমতো রুশ তেল মজুতের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

গত ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র এক ঘোষণায় সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য কেনাবেচার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি মেটাতেই ওয়াশিংটন এই সাময়িক ছাড় দিয়েছে।

যুদ্ধের আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রুশ ‘ইউরাল’ তেলের দাম যেখানে ছিল ব্যারেল প্রতি ৫৮ ডলার, মার্চের শুরুতেই তা ১০০ ডলারে গিয়ে ঠেকে। বর্তমানে এটি ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের উচ্চমূল্যেরই ইঙ্গিত দেয়।

ভারত ও চীনের কাড়াকাড়ি

ভারত: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দ্বিগুণ বাড়িয়ে প্রতিদিন ১৮ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছে। অথচ মাত্র এক মাস আগেই ট্রাম্পের সঙ্গে এক বাণিজ্যিক চুক্তির খাতিরে ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন যে ২৬ লাখ ব্যারেল তেল পেতো ভারত, রুশ তেল সেই ঘাটতি পুরোপুরি মেটাতে পারবে না।

আরও পড়ুন>>ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৮৫ দেশে বেড়েছে তেলের দাম, নেই বাংলাদেশতেলের দাম বাড়লে খাদ্যপণ্যের দাম কেন বাড়ে?তেল-গ্যাস থেকে জ্বালানি ছাড়াও যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি হয়

চীন: রাশিয়ার তেলের বড় বাজার চীন এখন নতুন করে তেল মজুত করছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘সিনোপেক’ এবং ‘পেট্রোচায়না’ গত নভেম্বর থেকে বন্ধ থাকা রুশ তেল কেনা ফের শুরু করতে সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এরিকা ডাউনস বলেন, ‘সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেলের জন্য এখন ভারত ও চীনের মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হবে।’

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর ইউটার্ন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে এতদিন যে দেশগুলো রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এড়িয়ে চলতো, তারাও এখন আগ্রহ দেখাচ্ছে।

ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ড: মার্কিন মিত্র হয়েও ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ড এখন সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ফিলিপাইনের জ্বালানি সচিব শ্যারন গারিন এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও রুশ তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ইন্দোনেশিয়া: দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা যে কোনো উৎস থেকে তেল কিনতে প্রস্তুত।

দীর্ঘমেয়াদি শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের জন্য রুশ তেল কেনাবেচায় ছাড় দেওয়ায় সমুদ্রে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল এখন বাজারে আসার সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই সুবিধা সাময়িক হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন>>হরমুজ প্রণালি বন্ধ/ বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দামইরান যুদ্ধে ১৫০০ কোটি ডলারের আয় হারিয়েছে প্রতিবেশীরা, বেশি ক্ষতি সৌদিরচীনা মুদ্রায় তেল কিনলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে দিতে পারে ইরানহরমুজ প্রণালি দিয়ে কোন কোন দেশের জাহাজ যেতে দিচ্ছে ইরান?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার তেল কিছুটা চাপ কমাতে পারলেও মধ্যপ্রাচ্যের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে না। ফলে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তেলের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

জ্বালানি থিংকট্যাংক ‘এনার্জি শিফট ইনস্টিটিউট’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুত্রা আদিগুনা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সুযোগটি খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। ফলে ক্রেতারা সবসময় একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে।’

সূত্র: নিক্কেই এশিয়াকেএএ/