আন্তর্জাতিক

হারাও ফুলের মেলায়, ভাসো প্রেমে: চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিনব পরামর্শ

চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় বসন্তের ছুটিতে শিক্ষার্থীদের প্রেম করার পরামর্শ দিয়েছে। বলা হচ্ছে চীনের মতো ভালো ফলাফলের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী একটি দেশে এটি বেশ অস্বাভাবিক নির্দেশনা। তবে বিয়ে ও অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়াতে নতুন উপায়ের অংশ এটি।

‘ফুল দেখুন, রোমান্স উপভোগ করুন’- এই স্লোগান সামনে রেখে ১ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বসন্তকালীন ছুটির ঘোষণা দিয়েছে সিচুয়ান সাউথওয়েস্ট ভোকেশনাল কলেজ অব অ্যাভিয়েশন। বিষয়টি তাদের অফিসিয়াল উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) প্রকাশিত ওই নোটিশে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বই-খাতা কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে রাখার আহ্বান জানানো হয়। এটি আসে প্রায় দুই সপ্তাহ পর, যখন চীন সরকার জানায় যে প্রচলিত গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি স্কুলগুলোতে বসন্ত ও শরৎকালীন ছুটি চালু করা হবে।

চীনা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কর্মীদের অফ-সিজনে ভ্রমণের সুযোগ দিতে ধাপে ধাপে বেতনসহ ছুটি নেওয়ার ব্যবস্থাও উৎসাহিত করা হবে।

সিচুয়ান ও পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশ, পাশাপাশি সুঝো ও নানজিং শহর- এসব জায়গায় এরই মধ্যে বসন্তকালীন ছুটির পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই এপ্রিল বা মে মাসের শুরুর দিকে নির্ধারিত।

১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশে ভ্রমণ ও অবসর কার্যক্রম বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়াতে চায় চীন। পাশাপাশি, বেশি অবসর সময় জন্মহার বৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি করবে- এমনটিও আশা করছে কর্তৃপক্ষ, যাতে কমতে থাকা জনসংখ্যার প্রবণতা উল্টানো যায়।

২০২৫ সালে টানা চতুর্থবারের মতো চীনের জনসংখ্যা কমেছে। জন্মহার নেমেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে, আর বিশেষজ্ঞরা আরও পতনের আশঙ্কা করছেন।

এদিকে, শিশু-বান্ধব উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে মঙ্গলবার একটি নির্দেশিকাও জারি করেছে বেইজিং, যা জানিয়েছে দেশটির শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি)।

এই নির্দেশিকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, ক্রীড়া ও বিনোদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনসেবা উন্নত করে ‘শিশুবান্ধব শহর’ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চীনা ভ্রমণ কোম্পানি ‘ট্রিপ’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জেমস লিয়াং বলেন, সন্তান লালন-পালনের জন্য সমাজে পর্যাপ্ত সময় ও অর্থ থাকা প্রয়োজন। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, বড় পরিবার গঠনের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুবিধা সম্পর্কে তরুণদের আরও বেশি সচেতন করতে হবে। লিয়াং একজন খ্যাতনামা জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞও। তার মতে, সরকার সম্পদের পুনর্বিন্যাস ও আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে একটি বিস্তৃত সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এসএএইচ