চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শুক্রবার বা শনিবার উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। সারাদেশে বইছে ঈদের আমেজ। মানুষ এখন পোশাকের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও ভিড় করছেন। ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে মাংসের দামও।
রাজধানীর পাড়া, মহল্লা ও নিত্যপণ্যের বাজারে গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়। যা কয়েকদিন আগে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা ছিল। অর্থাৎ কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ ও শাহজাহানপুরে মাংসের দোকান ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ দোকানে গরুর মাংস কেজি ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক দোকান নির্ধারিত মূল্য তালিকাতেও এ দাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।
কারণ জানতে চাইলে শাহজাহানপুর কলোনি বাজারের মাংস বিক্রেতা আবু হানিফ বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে গরুর সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে, মাংসের চাহিদা বেড়েছে। ফলে হাটে গরুর দামও বেড়েছে।
তিনি বলেন, বেশি দামে গরু কিনে কম দামে মাংস বিক্রি সম্ভব নয়। কিছুটা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে মাংস।
তবে ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ঈদের বাড়তি চাহিদা কাজে লাগিয়ে মাংস বেশি দামে বিক্রি করছেন। শাহজাহানপুর বাজারের ক্রেতা মামুন হক বলেন, হঠাৎ মাংসের দাম বেড়ে গেছে, ঈদের সময়ে যে ভালো-মন্দ খাবো তারও কোনো উপায় নেই।
তিনি বলেন, রোজা ও ঈদের মতো উৎসবে পণ্যের দাম বাড়ানো এ দেশে দীর্ঘদিনের রীতিতে পরিণত হয়েছে এবং এটি ব্যবসায়ীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। ঢাকার বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২১০-২২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি এখন ৩৩০-৩৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৩০০-৩২০ টাকার মধ্যে।
সাধারণ মানুষ বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রোজার শুরুতে বাজার তদারকিতে কড়াকড়ি থাকলেও ঈদকেন্দ্রিক তদারকি কমে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন।
এনএইচ/এমএএইচ/