দেশজুড়ে

মহাসড়কে ফসল মাড়াইয়ের হিড়িক, দুর্ঘটনার আতঙ্কে চালক-যাত্রীরা

নড়াইল জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো এখন স্থানীয় কৃষকদের ‘মৌসুমি ফসল মাড়াইয়ের উঠানে’ পরিণত হয়েছে। সড়কের ওপর ধান, গম ও ডালসহ বিভিন্ন ফসল শুকানোর কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, চালক ও পথচারীরা। এমনকি চলতি মাসের ১১ তারিখে কালিয়ায় এক ট্রলি চালকের মর্মান্তিক মৃত্যুও হয়েছে এই একই কারণে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সংযোগকারী প্রধান সড়কসহ গ্রামের অধিকাংশ রাস্তা এখন ফসলের দখলে। বিশেষ করে নড়াইল-গোবরা-সিঙ্গাশোলপুর, লোহাগড়া-লাহুড়িয়া এবং কালিয়া-চাপাইল-বড়দিয়া সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে আউশ, আমন, বোরো ও খেসারি-মসুর ডাল মাড়াই করা হচ্ছে। সড়কের একাংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহনগুলো সরু পথে চলতে বাধ্য হচ্ছে, যা মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ মাঝেমধ্যে সতর্কবার্তা দিলেও এই ‘চলতি সংস্কৃতি’ বন্ধ করা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সড়কে ফসল শুকানোর বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আইনগতভাবে আরও কঠোর হতে হবে।

গাড়ির চালক, যাত্রী ও পথচারীরা জানান, সড়কে ফসল শুকানো এখন অনেকটা ‘চলতি সংস্কৃতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কে ফসল শুকানোর প্রতিবাদ করলে স্থানীয় কৃষকদের হাতে লাঞ্ছিতের শিকার হতে হয়। দুর্ভোগ মেনে নিয়ে সড়কে চলতে হচ্ছে। ফলে গাড়ির চাকা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ফসল জড়িয়ে চলাচলে বাধাগ্রস্ত হয়, আবার যানবাহনেরও ক্ষতি হয়ে থাকে।

অটোরিকশা চালক রাকিব বলেন, সড়কগুলোর ওপর সারা বছরই বিভিন্ন ফসল মাড়াই ও শুকানো হয়। প্রতিবাদ করলে উল্টো অপমানের শিকার হতে হয়। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে যানবাহনের যন্ত্রাংশেও ক্ষতি হচ্ছে।

নিরাপদ সড়ক চাই নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ খায়রুল আলম বলেন, রাস্তার ওপর ফসল শুকানো ও মাড়াইয়ের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ জেলায় বিগত দিনে সড়কে ফসল শুকানোর কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে শত শত মানুষ। জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইন করে সড়কে ফসল মাড়াই বন্ধ করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

হাফিজুল নিলু/কেএইচকে/এমএস