দেশজুড়ে

গাজীপুরের দুই মহাসড়কই ফাঁকা, গণপরিবহন থাকলেও নেই যাত্রী

নাড়ির টানে লাখো মানুষের ঢাকা ছাড়ার পর শিল্পনগরী গাজীপুরের চিরচেনা ব্যস্ত মহাসড়কগুলো এখন পুরোপুরি শান্ত ও ফাঁকা। গত কয়েক দিনের ভয়াবহ যানজট আর জনসমুদ্রের দৃশ্য বদলে গিয়ে এখন বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গণপরিবহন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত সীমিত।

শুক্রবার সকালে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই ব্যস্ততম স্থানটিতে নেই কোনো কোলাহল। চিরচেনা যানজট কিংবা পরিবহন শ্রমিকদের হাঁকডাকও এখন স্তিমিত। যাত্রী সংকটের কারণে অনেক বাস দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারছে না। একই চিত্র দেখা গেছে ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায়।

ভোগরা বাইপাস পেয়ারা বাগান এলাকায় কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে আছে তবে যাত্রী সংকটের কারণে তারা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে না। যে সকল মানুষ নানা কারণে নানা ব্যস্ততায় ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়ি যেতে পারেননি তারা আজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে চাচ্ছেন। যাদের সংখ্যা খুবই সীমিত।

রংপুরগামী যাত্রী শাহীন আলম জানান, পরিবারের অন্য সদস্যদের আরও তিনদিন আগেই রংপুর পাঠিয়ে দিয়েছেন। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি যেতে পারেননি। আজ রংপুর যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছেন তিনি। যানজট না থাকায় খুব তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শ্যামলী কাউন্টারের কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া বলেন, গত কয়েক দিনের প্রচণ্ডভাবে যাত্রীদের চাপ ছিল, আজ অনেকটা ফাঁকা। গণপরিবহন থাকলেও যাত্রীসংখ্যা খুবই সীমিত।

এদিকে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দেখা যায়, যানবাহনের শৃঙ্খলা আনার জন্য যে সকল স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছিল তারা বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই সড়কে নেই। যানজট না থাকায় তারাও সড়কে ছিলেন না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।

নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাওগাতুল আলম জানান, মহাসড়কে যানজট নেই। সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও কম। অল্প পরিমাণে যাত্রী রয়েছে। মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে যেতে পারছে।

মো. আমিনুল ইসলাম/কেএইচকে/এমএস