জাতীয়

হাঁকডাকেও মিলছে না পর্যাপ্ত যাত্রী, নির্ধারিত ভাড়ায় চলছে বাস

‘সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার টার্মিনালে যে পরিমাণ যাত্রী থাকে, এখন ঈদের ছুটিতেও তেমন যাত্রীর দেখা নেই। যাত্রীর অপেক্ষায় শত শত বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে আছে। নিজ নিজ গন্তব্যের যাত্রীদের জন্য হাঁকডাক করছেন চালক ও তাদের সহযোগীরা। কিন্তু যাত্রীর তেমন দেখা মিলছে না। এমন অবস্থায় হতাশ হয়ে পড়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।’

শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে কথাগুলো বলছিলেন সোনার বাংলা পরিবহনের চালক মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, সায়দাবাদ এবং গাবতলী টার্মিনালে প্রচুর যাত্রীচাপ রয়েছে। সেখানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু মহাখালী টার্মিনালের চিত্র ভিন্ন। এখানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না।

মহাখালীর পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা জানান, আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এই তারিখ ধরে গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পবিত্র শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে এবারের ঈদে টানা সাতদিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। একইভাবে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও শুরু হয়েছে ছুটি। আর লম্বা ছুটি হওয়ায় এবার ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তির বলে জানিয়েছেন যাত্রী ও পরিবহন মালিকেরা।

রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে মূলত ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ, নাটোর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রায় দুই হাজার বাস যাত্রী পরিবহন করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাস টার্মিনালে তেমন কোনো যাত্রীচাপ নেই। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীরা টার্মিনালে আসছেন। নিজ নিজ গন্তব্যের কাউন্টারে বা বাসের সামনে দাঁড়াচ্ছেন। টিকিট কেটে বাসে উঠছেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর বাসগুলো গন্তব্য ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের জন্য বাস চালক-শ্রমিকেরা হাঁকডাক করছেন। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে কোনো পরিবহনকে দেখা যায়নি।

এর মধ্যে ময়মনসিংহগামী ইউনাইটেড পরিবহন ও বিলাশ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো রয়েছে। এ তালিকায় লেখা—‘ঢাকা-ময়মনসিংহ এসি ভাড়া ৪৫০ টাকা; ঢাকা-ময়মনসিংহ নন-এসি ৩১০ টাকা’। যাত্রীদের এ ভাড়ায় টিকিট কাটতে দেখা গেছে।

পুরান ঢাকার ওয়ারী থেকে মহাখালী টার্মিনালে এসেছেন ফারহান কবির। নিরালা পরিবহনের বাসের টিকিট কেটে বাসে উঠেছেন তিনি; যাবেন টাঙ্গাইলে।

ফারহান কবির বলেন, টার্মিনালে বাস পেতে কোনো ধরনের হয়রানি হতে হয়নি। নির্ধারিত ভাড়া ২৫০ টাকা দিয়েই টিকিট কেটেছি। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো।

মহাখালী থেকে সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করে ইউনাইটেড পরিবহন। এ পরিবহনের টিকিট বিক্রয়কর্মী আনোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ময়মনসিংহগামী ৪৪টি বাস যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে। তবে অন্যান্য বছর যাত্রীর যে চাপ ছিল, এবার তা আশানুরূপ নয়। অথচ শনিবার ঈদ। সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনের আগে বৃহস্পতিবারও এর চেয়ে বেশি যাত্রীচাপ থাকে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের মাসুদ জাগো নিউজকে জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে পরিবহন মালিক সমিতি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারছেন যাত্রীরা। তবে এবার ঈদের ছুটি লম্বা হওয়ায় বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীচাপ কম।

এমএমএ/এসএইচএস