জাতীয়

কেমন থাকবে ঈদের দিনের আবহাওয়া 

গত কয়েকদিন ধরে দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টি হচ্ছে, সঙ্গে কালবৈশাখি ঝড়। ঝড়-বৃষ্টির এ প্রবণতা শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতরের দিনও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তাই ঈদ আনন্দে বাধ সাধতে পারে চৈত্রের বৃষ্টি।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় (২৬ থেকে ৫০ শতাংশ অঞ্চল) অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

সারা দেশের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বেশি। ‌শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করছে আবহাওয়া দপ্তর। শুক্রবার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে মাদারীপুরে, ৩৩ মিলিমিটার। 

শনিবার চৈত্রের ৭ তারিখ। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের মতো শনিবার ঈদের দিন বিক্ষিপ্তভাবে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টি টানা হবে না। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পর দেখা মিলতে পারে রোদের। 

ঝড়-বৃষ্টি থাকায় দিনের তাপমাত্রা এখনও ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুর ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। এ দুটি স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল (পলাশ) ঈদের দিনের আবহাওয়ার বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশে ঈদের দিন শনিবার পুরো দেশের ওপর দিয়ে ২ বার (সকালের দিকে একবার ও সন্ধ্যার পরে আর একবার) শক্তিশালী কালবৈশাখি ঝড়, তীব্র বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি অতিক্রম করার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ঈদের দিন ঢাকা শহরের ওপর দিয়ে কালবৈশাখি ঝড় অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। ঈদের পরের দিনও প্রায় সারা দেশের ওপর দিয়ে কালবৈশাখি ঝড়, তীব্র বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি অতিক্রম করতে পারে।

আরএমএম/এমআরএম