জাতীয়

‘অভাব থাকলে ঈদের দিনও বসে থাকা যায় না’

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে উৎসবের রঙে রাঙানো দিন। পরিবারের সঙ্গে ঈদের সেই আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছেড়েছেন লাখো মানুষ। যারা আছেন তারাও পরিবারের সঙ্গে উদযাপনে ব্যস্ত।

একদিকে যেমন এই চিত্র, ঠিক তার বিপরীতেও আছে অনেক মানুষের জীবনের গল্প। ঈদের দিনও জীবিকার তাগিদে আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করে যাচ্ছেন অনেক মানুষ। তাদেরই একজন মধ্যবয়সী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা।

শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন রাজধানীর জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র শিশুমেলার সামনে বসে জুতা বিক্রি করছিলেন গোলাম মোস্তফা। কাঠের তাকে সাজানো কয়েক জোড়া জুতা, কিন্তু ক্রেতা কম। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র দুই জোড়া। তবু থেমে থাকার সুযোগ নেই তার।

গোলাম মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, অভাব থাকলে ঈদের দিনও বসে থাকা যায় না। আমার পুঁজি কম, বসে থাকলে চলবে না। ছেলের পড়াশোনার খরচ আছে, সংসার চালাতে হয়। বিক্রি না করলে খাবো কী?

স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর ৬০ ফিট এলাকার একটি বস্তিতে থাকেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। জানান, ঈদে বাসায় কোনো বিশেষ আয়োজন হয়নি। বরং এই দিনেও রোজকার মতোই সংগ্রাম তার।

জীবনের গল্প বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মোস্তফা। বলেন, তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। বাবা সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছেন। পরিবারে ছিলেন ৯ ভাইবোন। বাবার পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়লে তিনি সবাইকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। দীর্ঘ সংগ্রামে ভাইবোনদের মানুষ করেছেন। 

‘সবাই এখন মোটামুটি ভালো আছে। কিন্তু তাদের বড় করতে গিয়ে নিজের জীবনটা থেমে গেছে।’ ছলছল চোখে বলেন গোলাম মোস্তফা।

বিয়ে করেছেন দেরিতে। ২০০৭ সালে সংসার শুরু। এখন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়েই তার নতুন লড়াই। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেকে পড়াচ্ছেন। কলেজ পড়ুয়া ছেলের টাকার সংস্থান করতে গিয়ে হিমশিম খাওয়ার জোগাড়। নিজের ঘরও নেই। বস্তিতে থাকার জায়গা নিয়েও ঝামেলার মুখে পড়েছেন একাধিকবার।

মোস্তফা বলেন, আগে একটা ঘর ছিল, মামলা খাইছি, মাইরও খাইছি। এখন ছোট একটা ঘরে থাকি। টাকার টান, তাই ঈদের দিনও কাজ করতেছি।

একই অবস্থা আরেক শ্রমজীবী মোহাম্মদ মিলনের। তার পরিবারেও ঈদের আয়োজন নেই। শ্যামলী শিশু হাসপাতালের সামনে আখের রস বিক্রি করছেন তিনি। ঈদের দিনেও তার আখের রস করার মেশিন থেমে নেই।

মিলন বলেন, টাকা-পয়সার সংকট আছে। তাই ঈদের দিনও কাজ করছি। পরিবারের সঙ্গে সময় দিতে পারি না। ঘরভাড়া দিতে সমস্যা হয়, এজন্যই রাস্তায় নামতে হয়।

যশোরের বাসিন্দা মিলনের পরিবারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে। প্রতিদিন আয় ৬০০ টাকা। ঈদের দিন কাজ করলেও সেই একই আয়। তিনি বলেন, ইচ্ছা করে পরিবার নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাই, কিন্তু উপায় নেই।

এসএম/ইএ