জাতীয়

‘ঈদের দিন পরিবার থেকে অনেক দূরে, মনটা খারাপ’

সারাদেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এই আনন্দ দিনেও অনেকে কর্মে অবিচল, ছুটি মেলে না তাদের। বিশেষ করে নিরাপত্তাকর্মীরা পরিবার-পরিজন দূরে রেখে এই দিনেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

শনিবার (২১ মার্চ) মতিঝিলে দিলকুশার ইস্টার্ন ব্যাংকের বুথে কথা হয় নিরাপত্তাকর্মী শামসুল হকের সঙ্গে। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটায়। তিনি বলেন, আমার দুই ছেলে, দুইজনই এসএসসি পাস। বাড়িতে স্ত্রী ও মা আছেন। 

শামসুল হক বলেন, এই লাইনে (নিরাপত্তাকর্মী) চাকরি করলে এক ঈদে ছুটি পাওয়া যায়, আরেক ঈদে পাওয়া যায় না। আমি সামনের ঈদে ছুটি কাটাব। একসঙ্গে সবাই ছুটি কাটালে কোম্পানি চলবে কেমনে?

‘আমি কোম্পানির বাসায় থাকি না, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে নিজের মত করে থাকি। সকালে কটা ভাত খেয়ে আসছি, সারাদিন এভাবেই কাটবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের দিনেও পরিবার থেকে অনেক দূরে। মনটা খারাপ হয়ে যায়। ‌চাকরি করলে তো কিছু করার নেই।’

এ নিরাপত্তাকর্মী বলেন, খাওয়া খরচ ছাড়া যেটুকু থাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। এই মাসের শেষের দিকে আমি হয়তো ছুটি পাবো।

সকাল ৬টা থেকে ডিউটি শুরু হয়েছে জানিয়ে শামসুল হক বলেন, রাত ১০টা পর্যন্ত ডিউটি করব। আমি ডাবল ডিউটি করি। টানা ১৬ ঘণ্টা ডিউটি করি। জেনারেল ৮ ঘণ্টা আর ওভারটাইম করি ৮ ঘণ্টা। 

‘বেতন খুবই কম, জেনারেল ডিউটি করে এই শহরে তো চলা যায় না। আট ঘণ্টা ডিউটি করলে মাসে বেতন সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। খুবই সীমিত বেতন। এই টাকা দিয়া কীভাবে আমি চলব আর দেশে টাকাই বা পাঠাবো কীভাবে। তাই ডাবল ডিউটি করি।’

মতিঝিলের সাউথইস্ট ব্যাংকের বুথে সামনে কথা হয় শাকিল আহমেদ (ছদ্মনাম) নামে আরেকজনের সঙ্গে।‌ তিনি বলেন, তার বাড়ি কুমিল্লায়, গ্রামে স্ত্রী, এক সন্তান ও মা আছেন।

শাকিল আহমেদ বলেন, সিকিউরিটি সার্ভিসে কাজ করলে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানো মুশকিল। পরে ছুটি পাওয়া যায় কিন্তু তখন তো আর ঈদ থাকে না।

গুলিস্তানের জাতীয় স্টেডিয়াম ঢাকার নিরাপত্তাকর্মী জালালউদ্দিন হাওলাদার। ঈদের দিন সকাল থেকে স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেটে ডিউটি করছিলেন তিনি। জালালউদ্দিন জানান, তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জের ফরিদপুর গ্রামে। স্ত্রী-সন্তানরা রয়েছেন। মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। অফিসের আটজন নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে চারজন ছুটিতে থাকায় তার ছুটি মেলেনি। 

তিনি বলেন, গত বছরও রোজার ঈদ ঢাকায় করেছি। পরিবার রেখে একা একা ঈদ করতে খুবই কষ্ট হয়। ছেলে এসেছিল, তার কাছে কাপড়-চোপড় টাকা-পয়সার দিয়ে দিয়েছি। আমি এ মাসের শেষের দিকে বাড়ি যাবো।

আরএমএম/জেএইচ