ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আবারও বড় ধাক্কা খেল চেলসি। টানা হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় এবার তারা ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে এভার্টনের কাছে। ম্যাচের নায়ক বেতো জোড়া গোল করে দলের জয়ে রেখেছেন বড় ভূমিকা।
মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে চেলসির জন্য এটি ছিল আরেকটি দুঃস্বপ্নের অধ্যায়। এর আগে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে পিএসজির কাছে বড় ব্যবধানে হার, এরপর ঘরের মাঠে নিউক্যাসলের বিপক্ষে পরাজয়- সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা খেয়েছিল দলটি। সেই হতাশার ধারাই যেন এদিনও দেখা গেল।
ম্যাচের শুরু থেকেই এভারটন ছিল বেশি সংগঠিত ও আগ্রাসী। নিজেদের মাঠে সমর্থকদের সামনে তারা খেলেছে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল। প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা, আর সেই সূচনা করেন বেতো। সুযোগ বুঝে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে এভারটন। আবারও গোল করেন বেতো, যা ম্যাচে চেলসির ফিরে আসার সম্ভাবনাকে প্রায় শেষ করে দেয়। এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো কোনো এভারটন খেলোয়াড় এক ম্যাচে একাধিক গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি।
শেষদিকে দারুণ এক গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান ইলিম্যান এনদিয়ায়ে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার বাঁকানো শট সরাসরি জালের উপরের কোণে গিয়ে লাগে- যা ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
চেলসির কোচ লিয়াম রোজেনিয়রের জন্য এটি ছিল আরও একটি হতাশাজনক রাত। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু ম্যাচে জয় পেলেও বড় ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারছে না তার দল।
এই হারের ফলে লিগ টেবিলে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ হাতছাড়া করল চেলসি। একই সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ড্র করেছে এবং লিভারপুল হেরেছে- তাই চেলসির সামনে ছিল শীর্ষ চারে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ; কিন্তু বাজে পারফরম্যান্সে তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
অন্যদিকে, এই জয়ে এভারটন টানা দ্বিতীয়বার ঘরের মাঠে জয় পেল এবং পয়েন্ট তালিকায় লিভারপুলের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। ৩১ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে ৮ম স্থানে এভার্টন। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট চেলসির। ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে লিভারপুল।
এভার্টনের সামনে আসছে গুরুত্বপূর্ণ মার্সিসাইড ডার্বি- যেখানে এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতেই পারে তারা। সব মিলিয়ে, চেলসির জন্য এটি আরেকটি হতাশার রাত, আর এভারটনের জন্য আত্মবিশ্বাস ফেরানোর এক দারুণ জয়।
আইএইচএস/