শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি অঞ্চলের অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জন্য নিশ্চিত হয়নি সুপেয় পানির ন্যূনতম ব্যবস্থা। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই এই জনপদে শুরু হয় পানির জন্য হাহাকার। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০০ থেকে ১২০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ছে সাধারণ টিউবওয়েল। নিরুপায় হয়ে স্থানীয়রা পুকুর, ঝরনা ও কুয়ার দূষিত পানি পান করছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েক গুণ। তবে বছরের পর বছর এমন সংকট থাকলেও সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শ্রীবরদী উপজেলার মালাকোচা, টিলাপাড়া, বালিজুড়ি; ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি, তাওয়াকুচা, ছোট ও বড় গজনী এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার বাতকুচিসহ প্রায় ২০টি গ্রামে পানির স্তর অস্বাভাবিক নিচে নেমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে এসব এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০০ থেকে ১২০ ফিট নিচে নেমে যায়। যার ফলে সাধারণ টিউবওয়েলে আর পানি থাকে না। তবে বিত্তশালীরা সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহার করে পানির প্রয়োজনীয়তা মেটায়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে এই সীমান্ত অঞ্চলের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ টিউবওয়েল পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে।
ঝিনাইগাতীর নওকুচি এলাকার গৃহিণী সিলভী রাণী কোচ বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় মেম্বার-চেয়ারম্যানরা পানির সমস্যা সমাধান করে দিতে চায়, কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে কেউ আর খোঁজ রাখেন না। আমাদের ১৫টি বাড়ির জন্য একটা টিউবওয়েল দিলেও চলে। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়া যায় না।
শ্রীবরদীর রাণীশিমুল ইউনিয়নের মালাকোচা গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, ‘অনেকেই তো কই-সরকার পানির ব্যবস্থা কইরা দিব, কই কেউই তো আইজ পর্যন্ত আমগো খুঁজও নিল না। আমরা পুকুরের পঁচা পানি খাইয়া রোগ-বিরুগে ভুঁগতাছি, কেউতো দেখবারও আয়েন না। এইডা কোনো কথা হইলো। আমরা গভীর মোটর (সাবমার্সিবল পাম্প) চাই’।
বেসরকারি সংস্থা এসএইচআরএস এসব অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি নিয়ে কাজ করে। তারা বলছে, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ কোনো না কোনো ভাবে সুপেয় পানির অভাবে ভোগেন। তবে এ নিয়ে সরকারের বড় কোনো পরিকল্পনা এলাকায় নেই।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি জনপদে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় পানির সংকট হয়। বিষয়টি জরিপ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করা হবে।
মো. নাঈম ইসলাম/কেএইচকে/জেআইএম