ঈদের দ্বিতীয় দিনে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হাজারো পর্যটকে মুখর হয়ে উঠেছে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো।
রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের এমন ভিড় দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, বছরজুড়ে কম-বেশি প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা ভিড় জমান পাহাড়কন্যা খ্যাত অপরূপা বান্দরবানে। বিশেষ ছুটির দিন, শীত মৌসুম ও ঈদের ছুটিতে তা বাড়ে কয়েকগুণ। এবারের ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবারের ঈদ উপলক্ষে ইতোমধ্যে জেলার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো আগত পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। এতে ভালো ব্যবসার সুবাতাস বইছে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে কিছুটা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে গাড়ি ও নৌযান চালকদের।
ঢাকা থেকে আগত লক্ষ্মণ বিশ্বাস ও শিখা বিশ্বাস দম্পতি বলেন, পরিবার নিয়ে প্রথম বান্দরবান বেড়াতে এসে কয়েকটি পর্যটন স্পট ঘুরে দেখেছেন। তবে স্পটগুলোর মধ্যে নীলাচলটি সব থেকে ভালো লেগেছে।
ভোলা থেকে আগত মো. মুরাদ বলেন, আগে বান্দরবানে আসলেও যতবার এসেছেন ততবার ভালো লাগে। পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ কেন জানি তাকে বিমোহিত করে। ফলে সুযোগ পেলে তিনি বান্দরবানে ছুটে আসেন।
ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা আরেক পর্যটক নুর আলম বলেন, প্রথম পরিবার নিয়ে বান্দরবানে এসেছেন তিনি। ভ্রমণে এসে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয়দের আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে।
নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি পর্যটক এ কেন্দ্র ভ্রমণ করেছেন। দিনের বাকি সময়গুলোতে এ সংখ্যা ৩–৪ হাজারে পরিণত হতে পারে।
জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির লাইনম্যান মো. কামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, সকাল থেকে প্রতি গাড়িতে ১৩ জন করে ২৩০টি পর্যটকবাহী গাড়ি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।
বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) ফরিদ উদ্দীন বলেন, ঈদে গত দুদিনে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও সাদা পোশাকে কাজ করছে পুলিশ। এ ছাড়া এ পর্যন্ত অপ্রীতিকর ঘটনার কোনো প্রকার খবর পাওয়া যায়নি।
নয়ন চক্রবর্তী/আরএইচ/এএসএম