আন্তর্জাতিক

যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন আইসিসির চিফ প্রসিকিউটর

যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চিফ প্রসিকিউটর করিম খান। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত তিন সদস্যের একটি বিচারক প্যানেল তাকে সব দায় থেকে মুক্তি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত ৯ মার্চ বিচারক প্যানেল তাদের অত্যন্ত গোপনীয় প্রতিবেদনটি আইসিসির নির্বাহী তদারকি সংস্থা ‘ব্যুরো অব দ্য অ্যাসেম্বলি অফ স্টেটস পার্টিস’ (এএসপি)-এর কাছে জমা দেয়। জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি পরিষেবা (ওআইওএস)-এর একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিচারকরা গত ডিসেম্বর থেকে এই তদন্ত পর্যালোচনা করছিলেন।

কূটনৈতিক সূত্রমতে, বিচারকরা সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, করিম খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কোনো ধরনের ‘অসদাচরণ বা কর্তব্যে অবহেলা’ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘প্যানেল সর্বসম্মতভাবে মনে করে যে, ওআইওএসের প্রাপ্ত তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট কাঠামোর অধীনে কোনো অসদাচরণ প্রতিষ্ঠা করে না।’

নেপথ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত

করিম খানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো এমন এক সময়ে ওঠে, যখন তার দপ্তর গাজায় যুদ্ধাপরাধের জন্য ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছিল।

২০২৪ সালের মে মাসে করিম খান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলেন।

ইসরায়েল এবং তার মিত্র দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, এই তদন্ত বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক আদালতের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে করিম খান এবং আদালতের অন্যান্য কর্মকর্তাদের ওপর আর্থিক ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এমনকি, আন্তর্জাতিক আদালতের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

রাজনৈতিক চাপ ও হুমকি

তদন্ত চলাকালীন প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সরাসরি করিম খানকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন, ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হলে যুক্তরাজ্য আইসিসিতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেবে।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে দৃষ্টি সরাতেই করিম খান তড়িঘড়ি করে পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলেন। তবে করিম খান এই দাবিকে ‘ভ্রান্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ

আইসিসির নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যুরো একমত হয় যে কোনো অসদাচরণ ঘটেনি, তবে তদন্ত প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। গত সোমবার ব্যুরো এই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করতে বসলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। তবে বিচারকদের এই রায় করিম খানের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে করিম খান ছুটিতে রয়েছেন এবং তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি প্রসিকিউটররা দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছেন। এই রায়ের ফলে তিনি আবারও নিজের পদে পূর্ণ শক্তিতে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আইকেএএ/