সারা বছর ঢাকায় চাকরি করি। একমাত্র ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়ার লম্বা ছুটি পাই। এ ছুটি কাজে লাগাতে এক সপ্তাহ আগে গ্রামের বাড়ি জামালপুর যাই। খুব আনন্দঘন পরিবেশে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছি। এতে করে সারা বছর পরিশ্রমের কষ্ট দূর হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে অফিস শুরু। তাই আজ ঢাকা চলে আসছি।’ সোমবার (২৩ মার্চ) মহাখালী বাস টার্মিনালে বাস থেকে নেমে জাগো নিউজকে এসব কথা বলেন মনিরুল ইসলাম। তিনি খিলগাঁওয়ের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। চাকরি করেন শান্তিনগরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। মনিরুল ইসলামের মতো অনেকে কর্মজীবী ঈদ শেষে ঢাকা ফিরতে শুরু করেছেন। আজ মহাখালী বাস টার্মিনালে এমন চিত্র দেখা গেছে। আবার অনেককেই ঈদের তৃতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, এবার মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ঈদযাত্রায় তেমন কোনো ভোগান্তি হয়নি। একইভাবে ঢাকা ফিরতেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। শনিবার (২১ মার্চ) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছ। ১৭ মার্চ থেকে টানা সাতদিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। একইভাবে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কর্মীদের ছুটি দিয়েছে। আর লম্বা ছুটি হওয়ায় এবার ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তির বলে জানিয়েছেন যাত্রী ও পরিবহন মালিকেরা।
মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল থেকে মূলত ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ, নাটোর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় যাত্রী পরিবহন করে বিভিন্ন পরিবহনের প্রায় দুই হাজার বাস। এদিন সকাল ১০টায় সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালী বাস টার্মিনালে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে করে টার্মিনালে নামছেন যাত্রীরা। এরপর তারা নিজ নিজ গন্তব্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশায় করে যাচ্ছেন। অনেকে ঢাকা মহানগরে চলা বাসে উঠছেন। ময়মনসিংহ থেকে ৩১০ টাকার টিকিটে ননএসি বাসে ঢাকা ফিরেছেন সারওয়ার। তিনি বাস টার্মিনালে ঢোকার আগেই ডিএনসিসি হাসপাতালের সামনে নেমে যান। এসময় আলাপকালে সারওয়ার বলেন, মহাখালীর একটি পোশাক কারখানায় তিনি চাকরি করেন। স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে সবাই গ্রামে থাকে। তাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেই ঢাকা ফিরেছেন।
আবার যারা ঢাকার বাইরে যাবেন, তারা মহাখালী বাস টার্মিনালের সংশ্লিষ্ট বাস কাউন্টারে বা বাসের সামনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটছেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর বাসগুলো বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে। আর যেসব বাসের টিকিট কাউন্টার নেই, সেগুলোতে যাত্রীদের জন্য বাসচালক-শ্রমিকেরা হাঁকডাক করছেন। তবে কোনো পরিবহনকে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে দেখা যায়নি।
এর মধ্যে মহাখালী-ময়মনসিংহ রুটে ইউনাইটেড পরিবহন, মহাখালী-নেত্রকোনা রফরফ, মহাখালী-শেরপুর সোনার বাংলা, মহাখলী-কিশোরগঞ্জ অনন্যা পরিবহন, মহাখালী-ব্রাহ্মণবাড়িয়া লাবিবা ক্লাসিক, মহাখালী-টাঙ্গাইল বিনিময় পরিবহন, মহাখালী-সিরাজগঞ্জে এসআই এন্টারপ্রাইজ, মহাখালী-বগুড়া একতা পরিবহন, মহাখালী-সিলেট এনা পরিবহন, মহাখালী-টাঙ্গাইল নিরালা পরিবহনের কাউন্টারের সামনে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে। একইবাবে এসব বাসে বেশি মানুষ ঢাকা ফিরছেন। বগুড়ার বাসিন্দা বাসিন্দা নুরুল ইসলাম। থাকেন রাজধানীর কাঁটাবনে। আজ পরিবার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় ভোগান্তি এড়াতে আগে গ্রামে যাইনি। এখন স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছি। সেখানে কিছুদিন থাকবো। গ্রামে বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। তাদের সঙ্গে ভালো একটা সময় কাটাবো। একতা পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা রাহাদ মিয়া বলেন, এখনো ঈদযাত্রা অব্যাহত। একইভাবে বাসগুলো বগুড়া থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরছে। এবারের ঈদযাত্রা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো গেছে। কোথাও যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি হয়নি। এমএমএ/ইএ