চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে রাজশাহীতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। নগরীর বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি পাম্প মালিক সমিতির।
রাজশাহী জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল বলেন, পাম্পগুলোতে যা মজুত ছিল গতকাল (রোববার) শেষ হয়ে গেছে। ফলে আজ (সোমবার) থেকে কোনো পাম্পেই আর পেট্রোল ও অকটেন নেই। বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালকরা এসে পাম্পগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেক পাম্পেই নোটিশ দিয়ে দড়ি টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাঘাবাড়ি ডিপোতে আমাদের লরি গেছে। লরিতে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার তেলের ধারণক্ষমতা। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে তিন হাজার লিটার। আমরা পরিবেশকদের বলেছি পর্যাপ্ত তেল দিতে। রাতে তেল এসে পৌঁছালে আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে পাম্পগুলোতে পাওয়া যাবে।
পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তেল বিক্রি শুরু হলে গ্রাহকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। পুলিশ দিয়ে কাজ হয় না। এজন্য আমরা জেলা প্রশাসককে বলেছি, যেন পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তা না হলে তেল বিক্রি করা সম্ভব হবে না।
এদিকে, সোমবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও অনেকেই জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কোথাও কোথাও সীমিত আকারে বিক্রি হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
নগরীর সাহেব বাজার, সাগরপাড়া, শিরোইল, কোর্ট এলাকা ও তালাইমারীসহ বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহন লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অধিকাংশ চালক জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না।
পুঠিয়ার বানেশ্বর থেকে আসা এক মোটরসাইকেলচালক রবিউল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু এখনো তেল পাইনি। কাজকর্ম সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা প্রয়োজন।
পবা থেকে আসা মোটরসাইকেলচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পেট্রোলের খোঁজে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্প ঘুরতে ঘুরতেই আমার ট্যাঙ্কি খালি হয়ে গেছে। এখন বাড়ি ফিরে যাবো তারও উপায় নেই।
এদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক যানবাহন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।
সাখাওয়াত হোসেন/কেএইচকে/এএসএম