ঈদের ছুটিতে সিলেটের নয়নাভিরাম রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টে নেমেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এ অনন্য জলাবন। প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।
ঈদের দিন থেকে শুরু হওয়া এ ভিড় ঈদের ছুটির আগেরদিন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে পর্যটকদের ঢল নামে রাতারগুলে। গাছপালার ফাঁক দিয়ে দুপুরের রোদ পড়ার অপরূপ দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। নৌকায় ভেসে বনের ভেতর ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতি পর্যটকদের কাছে যেন সবুজের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার মতো।
প্রকৃতিগতভাবে বর্ষার সময় পানিতে টইটম্বুর বনটি বছরের অন্য সময়েও তার স্বতন্ত্র সৌন্দর্য ধরে রাখে। তবে শুকনো মৌসুমেও যেন তার রূপের কোনো কমতি নেই। ছাতার মতো ডালপালা মেলানো গাছের সারি, পাখির কিচিরমিচির আর শীতল বাতাস-সব মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে এক প্রশান্তিময় পরিবেশ। এ পরিবেশে ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে অনেকে খুঁজে পাচ্ছেন মানসিক স্বস্তি ও প্রশান্তি।
পর্যটকদের অনেকে জানান, ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কিছুটা দূরে এসে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর এমন সুযোগ খুব কম মেলে। তাই ঈদের ছুটিকে ঘিরে রাতারগুল তাদের কাছে হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।
স্থানীয় নৌকার মাঝিরাও সময়ে ব্যস্ত থাকলেও খুশি। পর্যটকদের আনাগোনায় তাদের আয় বেড়েছে, পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতিতেও এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটকদের উপস্থিতি যেমন আনন্দের, তেমনি এটি সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে দেশের সামনে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা বজায় থাকলে রাতারগুল ভবিষ্যতেও এভাবে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে থাকবে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক ইমন এখানে এসে ভিন্নরকম অনুভূতি। অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রের তুলনায় এখানকার পরিবেশ ভিন্ন। তবে নৌকা ভাড়া কম হলে আরও ভালো লাগতো।
সিলেটের এমসি কলেজের শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এখানে ঘুরতে আসছি। বর্ষা মৌসুমে আরও অনেকবার এসেছি। কিন্তু এখন বেশ ভিন্ন লাগছে। এভাবে গাছের নিচে সবুজ প্রকৃতির শীতল ছায়া হাঁটতে পেরে ভিন্ন রকম ভালো লাগা কাজ করছে।
তবে রাস্তাঘাটের উন্নতি হলে এ পর্যটনকেন্দ্রে আরও অনেক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে মনে করেন তিনি।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সিলেটের সবকটি পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে এটার পরিবেশ একেবারে ভিন্ন। অন্যান্য স্থানে প্রকৃতির এতটা কাছে যাওয়া সম্ভব হয় না। মনে হচ্ছে আফ্রিকার কোনো জঙ্গলে হাঁটছি।
তিনি বলেন, শুকনো মৌসুমে বনের ভেতরে যেহেতু হাঁটা যায়, পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য যদি বসার কোনো সুযোগ ব্যবস্থা তাহলে আরও চমৎকার হতো। তাছাড়া শৌচাগারও নেই। এসব প্রয়োজনীয় কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করলে এ পর্যটনকেন্দ্রটি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠবে।
আহমেদ জামিল/আরএইচ/এএসএম