প্রবাস

ডিজিটাল সালামিতে বিপদ, মালয়েশিয়ার ক্ষতি ৭৩ হাজার কোটি টাকা

মালয়েশিয়ায় ২০২৫ সালে প্রতারণা-সংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২.৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত। যা বাংলাদেশি টাকায় ৭৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বেশি ক্ষতি হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফর্টিনেট মালয়েশিয়ার তথ্যমতে, উৎসবকাল বিশেষ করে হারি রায়া (ঈদ) ঘিরে এ ধরনের প্রতারণা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ম্যানেজার কেভিন ওং জানান, ফিশিং প্রচারণা, ভুয়া ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং প্রতারণামূলক পেমেন্ট লিংকের মাধ্যমেই অধিকাংশ জালিয়াতি সংঘটিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে ই-ডুইট রায়া (ডিজিটাল সালামি) সাইবার অপরাধীরা কিউআর কোড ও পেমেন্ট চ্যানেলকে কাজে লাগিয়ে লেনদেন অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

ওং আরও বলেন, উৎসবকাল শুধু ভোক্তাদের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ নয়; এটি ব্যবসা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্যও হুমকি বাড়ায়। এ সময় লেনদেনের পরিমাণ ও ডিজিটাল কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় আক্রমণের ক্ষেত্রও বড় হয়। পাশাপাশি ছুটির কারণে কর্মীসংখ্যা কম থাকা বা কার্যক্রমে পরিবর্তন আসায় প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি হয়, ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ঝুঁকিতে পড়ে।

তিনি উল্লেখ করেন, সাইবার নাইন নাইন নাইন ইনসিডেন্ট রেসপন্স সেন্টার ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ২,০২০টি ঘটনার রেকর্ড করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই ছিল ফিশিং ও অনলাইন প্রতারণা।

ওং বলেন, এই পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে আনে উৎসবকালকে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘বিরতির সময়’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাই সার্বক্ষণিক নজরদারি, কর্মীদের সচেতনতা এবং মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনসহ শক্তিশালী পরিচয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি ভোক্তাদের জন্য কিছু সতর্কতার কথাও জানান। শুধু নিরাপদ (এইচটিটিপিএস) সংযোগযুক্ত যাচাইকৃত ওয়েবসাইটে কেনাকাটা করা, অচেনা বার্তা বা অবিশ্বাস্য অফারের লিংকে ক্লিক না করা, প্রতারণা সুরক্ষা সুবিধাসহ নিরাপদ পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা, কখনই ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (অটিপি) বা ব্যাংকিং তথ্য শেয়ার না করা, আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পাবলিক ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলা।

ওং জোর দিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলা করা যায়।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার জটিলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং ও নিরাপত্তা একত্রিত করলে দৃশ্যমানতা বাড়ে, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়া যায় এবং জটিলতা কমে।

দক্ষ জনবলের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে মালয়েশিয়ার ৯৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান দক্ষকর্মীর অভাবজনিত কারণে সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। তাই ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন এবং কর্মী উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এমআরএম/জেআইএম