গ্যাব্রিয়েল সুমন শূণ্য দশকের কবি। বোহেমিয়ান কাব্য প্রতিভায় জর্জরিত সুমন বাস করেন কবিতায়। আজ তার জন্মদিনে পড়া যাক তার কাপলেট। সম্পাদকীয় দফতরে এর নাম হতে পারে সেমি-কাপলেট।
প্রজাপতির প্রথম দুঃখ— সে প্রজাপতি নয়
অতীতকালের দুইটি বেদনার মধ্যে— অপেক্ষাকৃত তীব্র বেদনাটি মৃদু বেদনাকে হত্যা করে
সকলেরই ডানা আছে। উড়বার জন্য— ইচ্ছেই যথেষ্ঠ
ঝড় বৃষ্টির সময় পাখিরা কোথায় যায়— সেটি একটি অমিমাংসিত বিষয়
স্নান একটি উৎকৃষ্ট প্রার্থনা
প্রশ্নের ভিতরেই থাকে— প্রশ্নের উত্তর— প্রশ্নের তুচ্ছতা
শূন্য-ই সবচে বড় সংখ্যা, পরিমান কিংবা ধারণা
যে ভুলের মধ্যে আছে—সে জানে না যে, সে ভুলের মধ্যে রয়েছে
যে নিজের ঘর গোছাতে পারে—সে নিজের জীবন-ও গোছাতে পারে
বনের রাজা হয়েও—সিংহ জিরাফকে সমীহ করে চলে
মনের ভিতর ইমারত ও আভিজাত্য থাকলে—বাইরের কাগুজে আভিজাত্যের দরকার হয় না
গৃহের, জামাকাপড়ের ও ইহজাগতিক বিবিধ ময়লা পরিস্কার করলে—মনের ময়লা ধীরে ধীরে চলে যায়
মন খারাপ অবস্থায়— মানুষের মৃত্যু হয় না
মনের পুকুরের চাইতে মনের মাছ বড় হয়ে গেলে—হয় মাছ পুকুর ছেড়ে চলে যাবে—নয়তো পুকুর মাছকে উগড়ে দেবে
ঘড়ির দোকানে সময় বিক্রি হয় না
একজন প্রকৃত বেয়াদব— সমগোত্রীয়দেরকে চিনতে ও সমীহ করতে জানে। অপ্রকৃত বেয়াদবগণ ভিন্ন
নিজের কাছে যাবার পথ খুঁজে পাওয়া—সবচাইতে দুরুহ ‘অভিযান’
সুর কখনো সৃষ্টি করা যায় না। সুর অবতীর্ণ হয়। শুদ্ধ আত্মার নিকট
দাঁত না থাকলেও— দাঁতের ব্যাথা থাকতে পারে
মনের মৃত্যু হলে— মানুষ কাঁদবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে
মানুষ সবচে বড় প্রতারণাগুলি করে—নিজের সাথে
পথে নামলেই পথ অর্ধেক হয়ে যায়। অতঃপর আরও কমে যায়
যে কোন গন্তব্যে পৌঁছবার—একাধিক পথ থাকে।
সীমাবদ্ধতাঃ যে একটিমাত্র পথ চেনে সে ভাবে অন্য সব পথগুলি ভুল
যে ৩ পর্যন্ত গুনতে পারে—তার পক্ষে ৯ আর ৯৯ এর পার্থক্য কিংবা তুলনা করা অসম্ভব
ভাগ্যে আন্তনগর ট্রেন আছে বলে—মানুষ লোকাল ট্রেন মিস করে
একটি মূর্খের সাথে এক মিনিট কথা বলা মানে—অন্তত ৮৪ মিনিট সময় নষ্ট
‘কবির বয়স থাকে না—ভ্রমণ থাকে শুধু’
ঘোড়া ও ঘড়ির স্বভাব অনেকটাই একই রকম—কখনই শুয়ে পড়ে না
প্রতিটি পরাজয়—এক ধরণের ‘সৌন্দর্য উদঘাটন’
জানালাটা বন্ধ করে দেয়া যায়—কিন্তু রোদ ও রোদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যায় না
চোখই হৃদয়ে প্রবেশের উৎকৃষ্টতম দ্বার
গাছের একটি গোপন চোখ থাকে—গাছটি যে লাগিয়েছে তাঁর হৃদয়ে
গাছের মস্তিস্ক থাকে মাটির নিচে
মুরগীর জীবন যাপন করে—বাঘের জীবনযাপন পদ্ধতি বোঝা সম্ভব না
যে পারে—সে করে, যে পারে না—সে সমালোচনা করে
রঙের দোকানে ‘কালারসেন্স’ বিক্রি হয় না
শরীর ঘামলে—মনও ঘামে
কুকুরের কাছে—অতিমারী ও অতিদুর্যোগের খবরাখবর থাকে
যখন তুমি উপলব্ধি করতে পারবে—তোমার সমস্ত পরাজয়ের জন্য তুমি নিজেই দায়ী, অন্য কেউ নয়—কিছু নয়। তোমার ঘুরে দাঁড়ানো শুরু হবে ‘এখান থেকে’—এখান থেকেই তোমার উত্থান শুরু—কেউ তোমাকে রোধ করতে পারবে না।
অহংকার আর আত্মবিশ্বাসের মধ্যে—এক শক্তিশালী ‘কিন্তু’ ও ‘খেলার মাঠ’ রয়েছে
হৃদয়ের জানালা দরজা ভেন্টিলেটর—খুলে রাখলে দেখার চোখ ও মনোজগত ক্রমাগত সমৃদ্ধ হতে থাকে
দেখার চোখ—লেখার হাতকে শক্তিশালী করে
বুকের শহরে টেলিফোন নাই—টেলিপ্যাথি আছে
বৃষ্টির সময় ভিজতে ভিজতে কাঁদলে কেউ বুঝতে পারে না—কেউ কাঁদছে। কাঁদবার প্রয়োজন আছে
আরএমডি