দেশজুড়ে

খুলনার তেল পাম্পে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন

খুলনার বিভিন্ন তেল পাম্পে রয়েছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্রেতারা তেল নিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘিরে ক্রেতাদের ভিড় এবং ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে খুলনার বিভিন্ন তেল পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

খুলনার পাওয়ার হাউজ মোড়ে মেঘনা ফিলিং স্টেশনে আসা আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি গত দুইদিন অনেক পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে ফেরত গিয়েছি। আজকে প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে আছি তেল নেওয়ার জন্য। তেল নিয়ে জটিলতা দূর না করলে এই সমস্যা কাটবে না। একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে রোদের কারণে মানুষের কষ্টও হচ্ছে।

বিশ্বরোডে মারিয়া ফিলিং স্টেশনে আসা ক্রেতা সাজিদুর রহমান বলেন, দূরের পথে যাবো এজন্য প্রাইভেটকারে ২৫ লিটার তেল নিয়েছি। আবার সামনে কোনো পাম্প থেকে নিতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তেল নিতে গিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে। তেল টাকা দিয়ে ক্রয় করতে পারলেও সময় তো টাকা দিয়ে ক্রয় করা যায় না।

অপেক্ষারত মোটরসাইকেল চালক পারভেজ আলম বলেন, প্রায় ৪৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সামনে আরও ১৫ জন রয়েছে। ঈদের ছটিতে অনেক পাম্প বন্ধ ছিল। তেল নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আজকে শেষ পর্যন্ত তেল নিতে পারবো কি না সন্দেহ আছে।

মেঘনা ফিলিং স্টেশনের মালিক কাজী গোলাম মাসুদ বলেন, আমরা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল ডিপো থেকে পাচ্ছি না। তেল যতক্ষণ আছে ততক্ষণ ক্রেতাদের চাহিদা মাফিক দেবো।

তিনি আরও বলেন, সকাল ১০টা থেকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তেল বিক্রয় করছি। তবে তেল বিক্রয় করতে গিয়ে কোনো জটিলাতায় পড়তে হয়নি।

মারিয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ৯ হাজার লিটার তেল দিচ্ছে ডিপো থেকে। তার মধ্যে পেট্রোল ৩ হাজার, অকটেন ৩ হাজার আর ডিজেল ৩ হাজার লিটার রয়েছে। এই পরিমাণ তেল বিক্রি হলে পাম্প বন্ধ করে দেবো। আবার তেল আসলে তেল বিক্রি শুরু করবো।

তিনি আরও বলেন, আগে তো চাহিদা অনুযায়ী তেল পেতাম। বিক্রির ওপরে চাহিদা নির্ভর করে। তবে এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘিরে বিরূপ ধারণা ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের চাঁপ বৃদ্ধি পাওয়াতে সাময়িক একটু ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

আরিফুর রহমান/এনএইচআর/জেআইএম