দেশজুড়ে

তেল নিতে মোটরসাইকেলের ট্যাংক নিয়ে পাম্পে চালক

বাগেরহাটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার ২৩টি ফিলিং স্টেশনেই পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতি রয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ২০০ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না মোটরসাইকেল চালকরা। তাও সব ফিলিং স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক ও পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা।

সদর উপজেলার দশানী এলাকার শেখ সোহাগকে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের ট্যাংক খুলে তেল নিতে আসছেন।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে তেল নেই, তাই তেলের ট্যাংক খুলে নিয়ে আসছি। রাতে গাড়ি ঠেলে ঠেলে বাসায় নিয়েছি। এখন সাইকেল করে পাম্পে আসছি।

তিন বিঘা জমি চাষ করেন সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের রোক্সানা বেগম। ৩ থেকে ৪ দিন পাম্পে পাম্পে ঘুরে তেল না পেয়ে দারস্ত হন উপজেলা কৃষি অফিসে। সেখান থেকে কৃষি কর্মকর্তার স্বাক্ষর সম্মিলিত সুপারিশ পত্র এনে তেল নেন পাম্প থেকে। এসময় কথা হয় জাগো নিউজের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘আমি তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। তেল না পাওয়ায় ধানে পানি দিতে পারছি না। গত দুইদিনে পানির অভাবে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। পরে আজ কৃষি অফিস থেকে স্লিপ এনে পাম্প থেকে তেল নিয়ে যাচ্ছি।’

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি রাশেদুল ইসালাম বলেন, পেশাগত কারণে আমার মার্কেটে মার্কেটে ঘুরতে হয়। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গাড়ি চালাতে হয়। দুই তিন ঘণ্টা সিরিয়াল দিয়ে ২০০ টাকার তেল নিতে হয়। পাম্পে এই অতিরিক্ত সময় ব্যয় করায় বিক্রির টার্গেটও পূর্ণ হচ্ছে না। এতে করে আমাদের আয় রোজকার কমেছে।

ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন তানভীর ইসলাম। তিনি বলেন, খুলনা থেকে এই পর্যন্ত ১০টি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। আমার পেশাগত কারণে মার্কেটে থাকা লাগে। সারাক্ষণই ঝুঁকিতে আছি এই বুঝি বাইকের তেল শেষ হলো। সংকট যে পরিমাণ তার চেয়ে বেশি আমাদের দেখাচ্ছে। কোথাও কোনো কারসাজি আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে সরকারের কাছে আহ্বান জানান তিনি।

একই চিত্র বাগেরহাটে জেলার ২৩ টি ফিলিং স্টেশনের। ২৩টি ফিলিং স্টেশনেই তীব্র তেল সংকট রয়েছে। যুদ্ধের কারণে তেলের কিছুটা সংকট রয়েছে এবং যানবাহন চালকেরা হুট করে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নেওয়ায় আরও বেশি সংকট তৈরি হচ্ছে বলে দাবি পাম্প মালিকদের।

শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের অন্যতম পরিচালক মুর্শিদ কুলি খান বলেন, কয়েকদিন ধরে ডিপো থেকে চাহিদার চেয়ে কম তেল পাচ্ছি। তবে যে পরিমাণ পাচ্ছি তা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন করছি। মজুত বা অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই এই পাম্পে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, তেলের সংকটের জন্য আমরা সাধারণ মানুষও অনেকটা দায়ী। অনেকেই তেল নিয়ে বাসায় অবৈধভাবে মজুত করছেন। এছাড়া প্রয়োজন না থাকলেও কেউ কেউ গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে রাখছেন, যার কারণে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে তদারকি শুরু করেছি। যারা অবৈধভাবে তেল মজুত করছে, তাদের চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হবে।

নাহিদ ফরাজী/এনএইচআর/জেআইএম