আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলকে রক্ষায় ‘আয়রন ডোম’ বানাবে জার্মানির ভক্সওয়াগন

জার্মান বহুজাতিক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ভক্সওয়াগন তাদের একটি কারখানাকে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম (ইন্টারসেপ্টর) উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে। বুধবার (২৫ মার্চ) ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি রাফায়েল অ্যাডভান্স ডিফেন্স সিস্টেম-এর সঙ্গে আলোচনা করছে। জার্মানির ওসনাব্রুক কারখানাটি যাতে গাড়ি উৎপাদনের পরিবর্তে ইসরায়েলের আয়রন ডোম-এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।

এতে আরও বলা হয়েছে, চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় জার্মানির গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। ভক্সওয়াগন কোম্পানির এমন কর্মকাণ্ড ইতিহাসে বিরল নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ভক্সওয়াগন গাড়ি উৎপাদন বন্ধ করে নাৎসি জার্মানির জন্য অস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কারখানাটি থেকে আইরন ডোমের লঞ্চ প্ল্যাটফর্‌ম, পাওয়ার ইউনিট এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনের যন্ত্রাংশ তৈরি হতে পারে। নতুন বিনিয়োগ সীমিত রেখে ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জার্মানি ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেছে। দেশটি ইসরায়েলির জন্য অন্যতম বড় অস্ত্র সরবরাহকারী। তবে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, গাজা যুদ্ধ ও ইরানের ওপর অবৈধ হামলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্ট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে দায়ের করা মামলায় গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই অভিযোগে আদালত ‘গণহত্যার সম্ভাব্য ঝুঁকি’ স্বীকার করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

কেএম