ব্রেন্টফোর্ডের ফরোয়ার্ড ইগর থিয়াগো এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গোল্ডেন বুট দৌড়ে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আরলিং হালান্ডের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাই তাকে বাড়তি প্রেরণা জোগাচ্ছে- এমনটাই জানিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৯টি লিগ গোল করেছেন থিয়াগো, যা তাকে শীর্ষ গোলদাতা তালিকায় রেখেছে হালান্ডের ঠিক পেছনে। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই প্রথমবারের মতো ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তিনি, যেখানে কোচ কার্লো আনচেলত্তি আসন্ন প্রীতি ম্যাচের জন্য তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
থিয়াগোর মতে, ব্রাজিলের মতো বড় দলে জায়গা পেতে হলে এমন পারফরম্যান্স করতেই হয়। হালান্ডের মতো একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তাকে আরও উদ্দীপ্ত করছে। তার ভাষায়, ‘হালান্ডের মতো একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে গোলদাতার লড়াইয়ে থাকা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করে। এটা প্রমাণ করে আমি দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রস্তুত।’
২০২৪ সালে ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দারুণ ছন্দে আছেন থিয়াগো। সম্প্রতি ক্লাবটির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন, যা অনুযায়ী তিনি অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত লন্ডনের এই ক্লাবেই থাকবেন। তার গোলের ধারাবাহিকতায় এবার প্রিমিয়ার লিগে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে ব্রেন্টফোর্ড, যা ক্লাবটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
থিয়াগো মনে করেন, তার কঠোর পরিশ্রমের ফল এখন সবার নজরে আসছে। বিশ্বের অন্যতম কঠিন লিগে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।
এদিকে ব্রাজিল দলও নতুন করে গড়ে তুলছেন আনচেলত্তি। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলবে সেলেসাওরা। এই দুটি ম্যাচই হবে চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার আগে শেষ প্রস্তুতি।
আনচেলত্তি জানিয়েছেন, এখনও দলে চার থেকে পাঁচটি জায়গা ফাঁকা রয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে তার মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। তিনি নতুন কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দিচ্ছেন, যাতে তাদের পারফরম্যান্স দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আক্রমণভাগে চারজন খেলোয়াড় রাখার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই ইতালিয়ান কোচ।
২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তির লক্ষ্য একটাই—দলকে আবার বিশ্বকাপ জেতানো। ২০০২ সালের পর আর শিরোপা জেতেনি ব্রাজিল, তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন স্বপ্ন বুনছে দলটি।
আনচেলত্তির দৃষ্টিতে ব্রাজিল ফুটবল মানেই আনন্দ, শক্তি ও প্রতিভার সমন্বয়। তিনি ব্রাজিলের বিখ্যাত কার্নিভালের সঙ্গে দলের খেলার ধরনকে তুলনা করে বলেন, যেমন কার্নিভালে থাকে প্রাণচাঞ্চল্য, শিল্প ও সংগঠন- ঠিক তেমনটাই তিনি দেখতে চান তার দলের খেলায়ও।
সব মিলিয়ে, থিয়াগোর উত্থান, হালান্ডের সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আনচেলত্তির নতুন পরিকল্পনা- সবকিছু মিলিয়ে ব্রাজিল ফুটবলে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়, যার পরিণতি দেখা যাবে আসন্ন বিশ্বকাপে।
আইএইচএস/