চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না এবং ‘প্রতিরোধ নীতি’ তথা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে ইরান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সায়্যেদ আব্বাস আরাঘচি এমন তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের নীতি প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া, কোনো আলোচনা হয়নি।’ একইসঙ্গে আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘কোনো আলোচনা চলছে না।’
আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি নিয়ে সংশয়
আরাঘচি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর উদ্যোগের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইরান নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যাতে ভবিষ্যতে কেউ সহজে হামলার সাহস না পায়।
তার ভাষায়, ‘গ্যারান্টি ছাড়া যুদ্ধবিরতি একটি দুষ্টচক্র তৈরি করে, যা আবারও সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়।’
যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি নিয়ে সতর্কবার্তা
তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিবর্তে ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশে এসব ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যেসব দেশে এসব ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোই এখন আঘাতের মুখে পড়ছে।’
তিনি কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো দেশগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এসব হামলা ওই ঘাঁটির উপস্থিতির কারণেই হয়েছে।
আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত না হয় এবং নিজেদের দূরে রাখে।
‘ইরানের পাল্টা হামলা ইতিহাসের স্বর্ণালী মুহূর্ত’
আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের পাল্টা হামলা দেশের ইতিহাসে ‘স্বর্ণালী মুহূর্ত’ হিসেবে বিবেচিত হবে।’’ তার দাবি, এই প্রতিক্রিয়ায় প্রতিপক্ষের বহু লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন তারাই আলোচনার কথা বলছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে অবস্থান
হরমুজ প্রণালি সম্পর্কে তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলোর জন্য এই নৌপথ খোলা থাকলেও ‘শত্রু’ দেশগুলোর জন্য তা বন্ধ রাখা হয়েছে। চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তানের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
কেএম