দেশজুড়ে

বাবার কোল থেকে ছিটকে যায় তিন বছরের ইসরাফিল, পরে মেলে মরদেহ

বাবার বুকের সঙ্গে আদরে লেপটে ছিল তিন বছরের একমাত্র শিশুপুত্র ইসরাফিল। দুর্ঘটনার পর পানির ভেতরে বাবার কোল থেকে ছিটকে যায় শিশুটি। পানির তোড়ে মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে আবার ফিরেও পান তিনি। তবে উদ্ধারকারীদের নৌকার ওঠার আগে শিশুটিকে আবার হারিয়ে ফেলেন বাবা দেলোয়ার।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পানিতে ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রী ছিলেন খোকসার শোসপুর ইউনিয়নের সন্তোসপুর গ্রামের দোলায়ার, তার একমাত্র পুত্রসন্তান ইসরাফিল আর স্ত্রী নুর নাহার। আদরের শিশুপুত্রকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে স্ত্রীর পাশের সিটে বসে ছিলেন তিনি।

এরই মধ্যে ফেরিতে ওঠার সময় তাদের বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। দৈবক্রমে স্বামী-স্ত্রী বেঁচে ফেরেন। কিন্তু শিশু ইসরাফিল নিখোঁজ হয়ে যায়। গভীর রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সাভিসের কর্মীরা। ছেলের মরদেহ নিয়ে সর্বহারার মতো গ্রামে ফিরে আসেন স্বামী-স্ত্রী দুজন।

একমাত্র সন্তান ইসরাফিলকে হারিয়ে মা নুর নাহার অনেকটা পাগলপ্রায়। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মৃত ছেলের খাটিয়া থেকে একটু দূরে বাড়ির উঠানে একটি চেয়ারে তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে ঘিরে আছেন প্রতিবেশী নারীরা। কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না তিনি। মাঝে মধ্যে চিৎকার করে কেঁদে উঠছেন। আবার একাই নীরব হয়ে যাচ্ছেন।

পুত্রহারা শোকের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ইসরাফিলকে বুকে জড়িয়ে বাসে স্ত্রীর পাশে বসেছিলেন। দুর্ঘটনার পর পানির মধ্যে হাত থেকে ছুটে যায় ইসরাফিল। পানির তোড়ে আবার ফিরে আসা একমাত্র সন্তানকে আঁকড়ে ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পদ্মার তীব্র স্রোত বাবার বুক থেকে ইসরাফিলকে কেড়ে নেয়।

একই বাসের যাত্রী ছিলেন খোকসার জানিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাগড়বাড়িয়া গ্রামের যুবক রাজিব বিশ্বাস। ঢাকার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তিনি। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। এবার ছুটিতে বাড়ি এসে বিয়ে করার জন্য এক বৌদিকে পাত্রী দেখতে বলেছিলেন।

প্রতিবেশী বৌদি সঙ্গীতা বিশ্বাসকে রাজিব বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে বলেছিলেন বলে তিনি জানান। কিন্তু সে স্বপ্নের বিসর্জন হয়েছে পদ্মা নদীর জলে।

এ দুজন ছাড়াও খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের আয়েশা সিদ্দিকা নামের ১৩ বছরের আরেক শিশু এ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। বাবা গিয়াস উদ্দিন ছেলে সন্তানকে নিয়ে বাস ফেরিতে ওঠার আগেই নেমে যান। স্ত্রীর সঙ্গে বাসে থাকা একমাত্র মেয়েকে চিপস কিনে দিয়ে আবারও ছেলেটিকে নিয়ে নেমে যান। নিজের চোখের সামনে স্ত্রী এবং একমাত্র মেয়েকে ডুবে যেতে দেখেছেন। কিন্তু কাউকে উদ্ধার করতে পারলেন না। তবে তার স্ত্রী লিটা খাতুনকে উদ্ধারকারীরা জীবিত উদ্ধার করেন।

আল-মামুন সাগর/এসআর/জেআইএম