মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। এরই মধ্যে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন কেন্দ্রের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দেশটির এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে জাপানের গণমাধ্যমগুলো, যার মধ্যে জিজি প্রেসও রয়েছে, জানিয়েছিল শিল্প মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব ঘোষণা করতে যাচ্ছে। তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা তাকাহিদে সোয়েদা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘প্রতিবেদিত তথ্যটি সত্য’ ও পরিকল্পনাটি ওইদিনই বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
এর আগে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চমাত্রার কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণকারী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশনা ছিল।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছর থেকে এক বছরের জন্য পুরোনো ও কম দক্ষ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ করে দিলে এশিয়ার অনেক দেশই তাদের অর্থনীতি সচল রাখতে কয়লার দিকে ঝুঁকেছে। জাপানের এই উদ্যোগও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
দক্ষিণ কোরিয়াও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে এবং একই সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
ফিলিপাইনও যুদ্ধের কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
জাপানে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপন্ন হয়, যেখানে কয়লা একটি প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
জাপান তার তেলের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করলেও কয়লার প্রায় ৮০ শতাংশই অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে- দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী।
এদিকে জাপান বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জানিয়েছে, তেল আমদানিতে সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় তারা তাদের কৌশলগত মজুত থেকেও আরও একটি অংশ ছাড় করা শুরু করেছে। দেশটির মোট তেল আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।
সূত্র: এএফপি
এসএএইচ