স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গ্রেফতার হওয়া বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের নেতা শিমু আক্তার বৃষ্টি (মিষ্টি সুভাষ) ও রফিকুল ইসলামকে (দুর্জয়) সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ঢাকা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ রিমান্ড আদেশ দেন।
আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মো. শহিদুজ্জামান তাদের পাঁচদিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার রিমান্ড আবেদন খারিজ ও জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মিষ্টি সুভাষকে দুই দিনের এবং রফিকুল ইসলামকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদির সামনে ২২-২৫ জন নেতাকর্মী দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করতে সমবেত হন। তারা শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘অবৈধ নির্বাচনের অবৈধ সরকার মানি না, মানবো না’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান দেন।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের অনেক শীর্ষ নেতা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। দেশে যারা আছেন, তারাও নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না। তবুও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাঝে মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কার্যক্রম চালানো হয়।
২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হেনস্তার শিকার হন মিষ্টি সুভাষ। একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর ধানমন্ডি ৩২-এ শ্রদ্ধা জানাতে গেলে তাকে আটক করা হয়। এরপর হত্যাচেষ্টা সংক্রান্তসহ একাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় এবং দুই দফায় চার মাসের মতো কারাগারে ছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন মিষ্টি সুভাষ। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি হাতে নিয়ে মগবাজার এলাকায় পদযাত্রা ও প্রদক্ষিণ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর ৭ মার্চ তিনি মগবাজার চার রাস্তা মোড় থেকে এফডিসি গেট হয়ে হাতিরঝিল পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।
এমডিএএ/এমএএইচ/