আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের সঙ্গে থাইল্যান্ডের চুক্তি

হরমুজ প্রণালি দিয়ে থাই তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে থাইল্যান্ড ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (২৮ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, থাই তেল ট্যাংকারগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালিতে অতিক্রমের অনুমতি দিতে একটি চুক্তি হয়েছে।

তিনি জানান, এই সমঝোতার ফলে জ্বালানি আমদানি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমবে এবং মার্চের শুরুতে যে ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল, তা পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে ইরান প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অনেকটাই সীমিত করে দিয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া তেল ও এলএনজির ৮০ শতাংশের বেশি এশিয়ার দেশগুলোতে যায়।

থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এরই মধ্যে জ্বালানি সংকটের চাপ অনুভব করছে। থাইল্যান্ডে ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আগে সীমা নির্ধারণ করলেও সম্প্রতি প্রতি লিটারে ৬ বাথ (প্রায় ০.১৮ ডলার) পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আনুতিন জ্বালানি মূল্য ব্যবস্থাপনার কারণে জনদুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আশা করেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি হামলার শিকার হওয়া একটি থাই জাহাজের বিষয়ে ইরান জানিয়েছে যে জাহাজটি শনাক্ত করা হয়েছে, তবে নিখোঁজ তিন নাবিকের অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা সাময়িক স্বস্তি দিলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম