লাইফস্টাইল

হঠাৎ দিনের রুটিন পাল্টালে যেসব সমস্যা হয়

দীর্ঘ এক মাসের রোজা, ঈদের হৈ-হুল্লোড়, তারপর ছুটি শেষে শেষে দৈনন্দিন জীবনের কাজে ফেরা। এসবের ফলে বছরের এই সময়টায় মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই আমাদের শরীরের রুটিন কয়েকটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়।

কারও ওপর এই পরিবর্তন খুব কম প্রভাব ফেলে, কারও শরীর আবার একেবারেই ভেঙ্গে পড়ে। হঠাৎ করে এভাবে সারা দিনরাতের রুটিন পরিবর্তন হওয়ার ফলে কিছু লক্ষণ দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। জেনে নিন এসব লক্ষণ, যেন ক্লান্তি ভেবে অন্য কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার ভুল না করেন।

১. ঘুমের ব্যাঘাত

আমাদের শরীরের ভেতর একটি জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম থাকে। হুট করে রুটিন পাল্টালে এই ঘড়িটি এলোমেলো হয়ে যায়। ফলে অনিদ্রা বা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে সারাদিন ক্লান্তি ও ঝিমুনি ভাব কাজ করে।

২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

রুটিন মানুষকে এক ধরণের মানসিক নিরাপত্তা দেয়। যখন সেই নির্ধারিত ছক ভেঙে যায়, তখন মস্তিষ্ক অনিশ্চয়তা বোধ করে। এর ফলে অহেতুক টেনশন, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। তখন নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে তৈরি হয় অতিরিক্ত অ্যাডাপ্টেশন স্ট্রেস।

৩. হজমের সমস্যা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

খাওয়ার সময় বদলে গেলে পাকস্থলীর এনজাইম নিঃসরণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে অ্যাসিডিটি, বদহজম বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় রুটিন বদলে যাওয়ায় মানুষ অনিয়মিতভাবে ফাস্টফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।

৪. কর্মদক্ষতা ও মনোযোগ হ্রাস

রুটিনহীন জীবন মানুষের ফোকাস নষ্ট করে দেয়। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করার অভ্যাস না থাকলে মস্তিষ্ক বারবার মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। ফলে কর্মক্ষেত্রে বা পড়াশোনায় ভুলের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং কাজের গতি কমে আসে।

৫. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

শরীরের মেটাবলিজম এবং হরমোন নিঃসরণ নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রুটিন পাল্টে গেলে কর্টিসল (মানসিক চাপের হরমোন) বেড়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ বা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

জীবনের প্রয়োজনে অনেক সময় রুটিন বদলাতে হয়। তবে এই পরিবর্তন হঠাৎ না করে ধীরে ধীরে করা উচিত। নতুন সময়ের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার এবং নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্রামের চেষ্টা করা জরুরি। হুট করে বড় কোনো পরিবর্তন না এনে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিলে শরীর ও মন সহজেই মানিয়ে নিতে পারে।

সূত্র: হেলথলাইন ,হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, মেডিকেল নিউজ টুডে

এএমপি/এএসএম