আন্তর্জাতিক

নেপালে ১০০ দফা কর্মপরিকল্পনা, বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকছে না দলীয় রাজনীতি

নেপালের সরকার কার্যকর সুশাসন নিশ্চিত করতে উচ্চাভিলাষী ১০০ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই রোডম্যাপ অনুমোদন দেওয়া হয়, যা রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রথম ধাপে ১৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় গণআন্দোলনের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। আইন, অর্থ, রাজস্ব ও গবেষণা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে কাজ করবে।

দ্বিতীয় ধাপে ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সময়কালে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের সম্পদ তদন্ত করা হবে।

সরকার ডেলিভারি-ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে, যাতে সরকারি কার্যক্রম আরও কার্যকর, পরিমাপযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক হয় এবং সরাসরি জনগণের জীবনে উন্নতি আনা যায়।

এই কাঠামোর আওতায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় সাতটি মূল খাতে নির্দিষ্ট কাজ, সময়সীমা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মদক্ষতার সূচকসহ নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন করবে। এসব অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নিয়মিত মূল্যায়নের জন্য জমা দিতে হবে।

সংবিধানের নীতি ও জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের নিয়ে একটি ন্যাশনাল কমিটমেন্ট তৈরি করা হবে, যা নীতি, কর্মসূচি, বাজেট ও সংস্কার এজেন্ডার সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং তা বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া সাত দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন নিয়ে একটি আলোচনা পত্র প্রস্তুতের ঘোষণাও দিয়েছে সরকার।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো—১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্র অতীতের বৈষম্য ও বঞ্চনার স্বীকৃতি দেবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তি ও পুনর্মিলনের কাঠামো তৈরি করবে।

সেপ্টেম্বর ৮-৯ এর জেন-জি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, আস্থা পুনর্গঠন এবং শহীদ পরিবারকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১০০ দিনের মধ্যে পুনর্বাসন প্যাকেজ বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে, যার মধ্যে কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানসিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সাবেক স্পেশাল কোর্ট চেয়ারম্যান গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

৩০ দিনের মধ্যে অতীতের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে দীর্ঘদিনের অকার্যকারিতা দূর করা যায়।

প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৩০ থেকে কমিয়ে ১৭-তে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে ট্রানজিশন রোডম্যাপ এবং একটি পুনর্গঠন সচিবালয় গঠন করা হবে।

সরকারি সেবায় জটিলতা কমাতে অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বাতিল, অনুমোদনের স্তর তিনটিতে সীমিত করা এবং বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

একটি বড় সংস্কার হিসেবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে, সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অন্যান্য সেবাকর্মীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ছাত্রসংগঠন বাতিল করে ৯০ দিনের মধ্যে স্টুডেন্ট কাউন্সিল চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সাতটি প্রদেশে বিনামূল্যে ব্লু বাস সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ১০০ দিনে অন্তত ২৫টি বাস চালু করা হবে।

এছাড়া ৪৫ দিনের মধ্যে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস বিল প্রণয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষার ফল প্রকাশ, নাগরিকত্ব সনদ ছাড়াই স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত পড়ার সুযোগ এবং পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বাতিলের মতো শিক্ষাবিষয়ক সংস্কারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ শয্যা দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রাখার বিধান কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

এমএসএম