ইন্টারন্যাশনাল হার্ট ফেলিউর কনফারেন্সের অংশ হিসেবে ঢাকার বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে প্রি-কনফারেন্স কর্মশালা হয়েছে। এতে এআই-ভিত্তিক মেডিকেল ম্যানেজমেন্ট, কার্ডিয়াক এমআরআই এবং অ্যান্ডোমায়োকার্ডিয়াল বায়োপসির আধুনিক প্রয়োগ নিয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ চিকিৎসায় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশকেও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমেই উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, এআই ও উন্নত কার্ডিয়াক ইমেজিং প্রযুক্তি শুধু চিকিৎসার মানই বাড়াবে না বরং রোগ নির্ণয়কে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের কর্মশালা চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
কর্মশালায় মেডিকেল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, কার্ডিয়াক ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) এবং অ্যান্ডোমায়োকার্ডিয়াল বায়োপসির আধুনিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। প্রথমবারের মতো দেশে এআই-ভিত্তিক ডায়াগনস্টিকস ও উন্নত কার্ডিয়াক ইমেজিং প্রযুক্তির ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এআই প্রযুক্তি হার্ট ফেলিউর দ্রুত শনাক্তকরণ, নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং রোগীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে কার্ডিয়াক এমআরআই হৃদযন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতা মূল্যায়নে ‘স্বর্ণমান’ হিসেবে বিবেচিত।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ডিজিটাল হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. সুলতান কাভেরি এআই-ভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া দেশি-বিদেশি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দ্বিতীয় পর্বে কার্ডিয়াক এমআরআই বিষয়ক ওয়ার্কশপে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. মনজুর মাহমুদ এবং ভাইস-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাফর ইকবাল জামালী। প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল জুরিখের অধ্যাপক ডা. রোবার্ট মানকা, বিএমইউর হার্ট ফেলিউর ডিভিশনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. দীনে মুজাহীদ মো. ফারুক ওসমানী এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাহিদুল হক।
ইন্টারঅ্যাকটিভ এই কর্মশালায় লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন, কেস-ভিত্তিক আলোচনা এবং এআই-সহায়ক কার্ডিয়াক ইমেজিং বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে চিকিৎসকদের বাস্তব দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে এআই ও কার্ডিয়াক এমআরআই-এর সমন্বয় হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তবে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং নীতিমালার সমন্বিত বাস্তবায়ন জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রি-কনফারেন্স কর্মশালা দেশে প্রযুক্তিনির্ভর কার্ডিওলজির নতুন যুগের সূচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে হৃদরোগ চিকিৎসার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসইউজে/এমআইএইচএস