দেশজুড়ে

ঘরে আগুন দিয়ে কিশোরকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

ফরিদপুর সদর উপজেলায় নিজ বাড়ির ঘরের ভেতর আগুনে পুড়ে তামিম মিয়া (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার পূর্ব বাখুন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তামিম মিয়ার বাবা রফিক মিয়া ওই গ্রামের বাসিন্দা ও একজন প্রবাসী।

ফায়ার সার্ভিস, নিহতের বাবা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তামিম মিয়া তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে পরিবারসহ যায়। রাতে সে একাই বাড়িতে চলে আসে ঘুমানোর জন্য। এরপর ঘুমিয়ে পড়লে রাতের কোনো এক সময় ঘরের ভেতর আগুন লেগে যায়। এসময় সে চিৎকার করে দরজা খুলতে চাইলে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ পায়। এরপর প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। ঘরের ভেতরে থাকা তামিম গুরুতরভাবে দগ্ধ হলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তামিম মিয়ার বাবা রফিক মিয়া মোবাইলে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে প্রতিবেশী ও আমার আত্মীয় স্বজন। এটি একটি হত্যাকাণ্ড। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা যায় তিনটি ঘরে আগুন জ্বলছে। আগুনে রফিক মিয়া ও শওকত মিয়ার তিনটি ঘর পুড়ে যায়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। আমরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছাই তখন তিন ঘরেই আগুন জ্বলছিল। যার কারণে বাইরে থেকে দরজা আটকানো ছিল কি না দেখা সম্ভব হয়নি। পরে জানতে পারি একটি ঘরে তামিম নামে এক তরুণ দগ্ধ হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। কীভাবে আগুন লেগেছে, কী ঘটনা ঘটেছে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম