পানি জীবনের প্রতীক। আবার এই পানিই কখনো কখনো হয়ে উঠে জীবনের ঘাতক। সেখানে যেমন প্রাণ বাঁচানোর শক্তি লুকিয়ে থাকে তেমনি ওৎ পেতে থাকে মৃত্যুরও হাতছনি। যে সমুদ্রের কাছে গিয়ে হৃদয় শান্ত হয় সেখানেই আবার নিঃশব্দে থেমে যায় জীবন।
তেমনটাই হলো ভারতের দুই ভুবনের জনপ্রিয় দুই তারকার বেলাতেও। সংগীতের জগতে জাদুকরী কণ্ঠের অধিকারী জুবিন গার্গ ও বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়; দুজনেরই জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে পানিতে ডুবে। এ প্রয়াণ মেনে নিতে কষ্ট হয়।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সিনেমায় নিজের অভিনয় দক্ষতা ও স্বতন্ত্র উপস্থিতির জন্য পরিচিত ছিলেন। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। অন্যদিকে জুবিন গার্গ বাংলা, হিন্দি ও অসমিয়াসহ নানা ভাষার সংগীতে নিজের কণ্ঠের মাধ্যমে অসংখ্য শ্রোতার হৃদয় জয় করেছিলেন।
২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবিতে নবাগত রাহুলের সাবলীল অভিনয়ের সঙ্গে জুবিন গার্গের জাদুকরী কণ্ঠের মিশেলে ‘পিয়া রে’ গান বাঙালির অনুভূতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। উসকোখুসকো চুল, চোখ আর শরীরী ভাষায় ব্যর্থ প্রেমিক রাহুল যেন ঠিক পাশের বাড়ির ছেলে। আর কণ্ঠে জুবিন ছিলেন অসাধারণ। রাহুলের ‘ব্যর্থ প্রেমে’র আবেগঘন চরিত্র এবং জুবিনের কণ্ঠে ভেসে আসা গানের সুর- দুটিই একসময় দর্শক-শ্রোতাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। সেই স্মৃতিই আজ তাদের প্রয়াণের পর আরও বেশি করে ফিরে আসছে ভক্তদের মনে।
দুই ভুবনের এই দুই জনপ্রিয় তারকার মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে শোক ও বিস্ময়। অনেকেই এই ঘটনার মধ্যে এক অদ্ভুত কাকতালীয় মিল খুঁজে পাচ্ছেন। পানিই হয়ে উঠল তাদের জীবনের শেষ ঠিকানা।
একজন শিক্ষিত, সংবেদনশীল বাঙালি অভিনেতা হিসেবে রাহুল ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। যে কোনও বিষয়ে সাহসের সঙ্গে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে পিছপা হতেন না। মূল ধারার বাণিজ্যিক ছবি নিয়ে রাহুলের কোনও ছুঁৎমার্গ ছিল না। কিন্তু, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারনে ‘আঁতেল’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই ‘আঁতেল’-ই কিন্তু বাংলা সিনেমার ইতিহাসে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর মতো একটি নজিরবিহীন কাজ করেছেন, মৃত্যুর পরবর্তী সময়ও যা তার সঙ্গী হয়ে রয়ে গেল।
তবে জুবিনের মৃত্যুর মতোই রাহুলের মৃত্যুকেও অস্বাভাবিক মনে করছেন অনেকে। এই মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্যও। উঠছে নানা প্রশ্ন। জুবিনের মৃত্যুর দায়ে বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছেন। রাহুলের বেলাতেও কি তেমনটাই ঘটবে কি না সময় বলে দেবে।
মামলা হয়েছে এরইমধ্যে। শুরু হয়েছে তদন্ত। দেখা যাক- নক্ষত্রের আলো নিভিয়ে দেয়ার দায় কি নেবে সমুদ্রের পানি? নাকি প্রমাণ হবে, ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে আসলে মানুষই ছিলো প্রাণের বিপক্ষে। চেনা মুখই ছিলো জনপ্রিয় মুখের খুনি!
এলআইএ